ওঙ্কার ডেস্কঃ বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর থেকেই ছন্দপতন। কলকাতা পুরসভায়ও ডামাডোলের অন্ত নেই। কৃষ্ণা চক্রবর্তী পদত্যাগ করেছেন বৃহস্পতিবার। শুক্রবার মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম। কিছুদিন ধরেই কানাঘুশো শোনা যাচ্ছিল পদত্যাগের। অবশেষে সেই জল্পনায় সিলমোহর। মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা পুরসভাও হাতছাড়া হল তৃণমূলের।
ফিরহাদ বলেন, “ফিরহাদ হাকিম কেউ নয়। যে চেয়ারটায় প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিরা বসেছেন তার একটা সম্মান আছে। মানুষ প্রচুর যাঁরা আসতেন, তাঁদের রিলিফ দেওয়ার কাজ করেছি। এখন সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সেই চেয়ারটাকে অবমাননা করতে পারি না। চেয়ার ধরে বসে থাকব, অথচ ঢাল নেই, তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। তাই আমি ইস্তফা দিলাম। আগামিদিনে যাঁরা পুরসভা চালাবেন, তাঁরা আমার থেকেও হয়তো ভালো কাজ করবেন। হয়তো লোকে আমাকে ব্যঙ্গ করবেন, সমালোচনা করবেন। কিন্তু স্বচ্ছভাবে পুরসভা চালিয়ে মানুষকে পরিষেবা দেওয়া সহজ কাজ নয়। হয়তো এখন চেয়ারের মর্যাদা রাখতে পারছি না।
ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার ফলে কলকাতা পুরসভাও হাতছাড়া হল তৃণমূলের। কলকাতা পুরসভা আপাতত চালাবেন পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে। পরে চাইলে প্রশাসক বসাতে পারে রাজ্য। ডিসেম্বরে হওয়ার কথা পুরভোট।
গত ২০১৮ সাল থেকে ৩৮ তম মেয়র হিসাবে কলকাতা পুরসভায় দায়িত্ব পালন করেন। প্রায় ৮ বছর পর মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিলেন ফিরহাদ হাকিম। তৃণমূলের ভরাডুবির মাঝে এবারও ভোটে লড়ে বিধায়ক হন ফিরহাদ। সম্প্রতি নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও হয় তাঁর। সূত্রের খবর, তাতেই নাকি বিরক্ত তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।