ওঙ্কার ডেস্ক: এমবিএ পড়তে লন্ডনে গিয়েছিলেন মেয়ে। বাবা-মায়ের ধারণা ছিল, বিদেশেই রয়েছেন তিনি। কিন্তু গোপনে ভারতে ফিরে এসে পুণের একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন ৩৪ বছরের মুগ্ধা অবিনাশ দেশমুখ।বৃহস্পতিবার ওই ফ্ল্যাট থেকেই উদ্ধার হল তাঁর দেহ।
ব্যাঙ্কের নথিতে খাবার ডেলিভারি ও অনলাইন পরিষেবার লেনদেনের সূত্র ধরেই মেয়ের ভারতে ফেরার বিষয়টি জানতে পারেন তাঁর বাবা-মা। মুগ্ধার আদি বাড়ি মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে। পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের গাহুঞ্জে এলাকার লোধা বেলমন্ডো আবাসনে ভাড়া থাকতেন তিনি। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শরীরে বাইরে থেকে আঘাতের কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও জানা যায়নি। তা জানতে দেহের নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের জুলাই মাসে এমবিএ পড়ার জন্য ব্রিটেনে গিয়েছিলেন মুগ্ধা। চলতি বছরের আগস্টে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। এরপর থেকে পুণেতে থাকলেও বাবা-মাকে সে কথা জানাননি।পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ফোন ও মেসেজে যোগাযোগ রাখতেন মুগ্ধা। তাঁরা মনে করতেন, মেয়ে লন্ডনেই পড়াশোনা করছেন। কিন্তু গত ২৪ অক্টোবর থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি পরিবারের লোকজন। মুগ্ধার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।
এরপর তাঁর বাবা অবিনাশ দেশমুখ লন্ডনে থাকা মেয়ের এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সংবাদ সংস্থাকে এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ওই বন্ধু শেষবার ২২ অক্টোবর মুগ্ধার সঙ্গে মেসেজে কথা বলেছিলেন। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কথা জানাতে লন্ডন পুলিশের দ্বারস্থ হন বন্ধুটি। কিন্তু পুলিশ জানায়, আগস্টের শেষ দিকেই ব্রিটেন ছেড়েছেন মুগ্ধা। এরপর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এবং ভারতীয় হাই কমিশনের সাহায্য চান মুগ্ধার পরিবার।
মেয়ের খোঁজ পেতে তাঁর ব্যাঙ্কের লেনদেনের নথি খতিয়ে দেখেন অবিনাশ। সেখানে ৮ থেকে ২৫ অক্টোবরের মধ্যে খাবার ডেলিভারি এবং বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবার একাধিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি লেনদেন ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের ওসমানপুরা এলাকার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ হয় পরিবারের। সেই সূত্র থেকেই মুগ্ধার ভারতে ফিরে আসার সম্ভাবনা জোরালো হয়। মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ছত্রপতি সম্ভাজিনগর পুলিশের অপরাধ দমন শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করেন পরিবারের লোকজন। এরপর তাঁর অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা শুরু হয়।
তদন্তে মুগ্ধার অবস্থান পুণের গাহুঞ্জে এলাকার লোধা বেলমন্ডো আবাসনে বলে জানতে পারে পুলিশ। এরপর পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ের স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। শিরগাঁও থানার সিনিয়র ইনস্পেক্টর দেবেন্দ্র চবন জানিয়েছেন, মুগ্ধার ফ্ল্যাটে পৌঁছে তালা খোলার জন্য এক চাবি তৈরির কারিগরের সাহায্য নেওয়া হয়। এরপর ভিতরে ঢুকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মুগ্ধা এপ্রিল মাসে ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে ব্রিটেন থেকে ফিরে আগস্টে সেখানে থাকতে শুরু করেন। মুগ্ধার মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তে এখনও মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। আরও পরীক্ষার রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্তকারীরা।