ওঙ্কার ডেস্ক: দেশে ক্রমবর্ধমান বায়ুদূষণ ও সামগ্রিক পরিবেশগত অবনতির প্রশ্নে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে কড়া অবস্থান নিল ন্যাশেনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল। দূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে কেন্দ্রকে নোটিস জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল।
জানা গিয়েছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিশেষ করে মহানগরগুলিতে বায়ুদূষণের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক মাত্রায় পৌঁছেছে। বাতাসে ভাসমান ক্ষতিকর কণার পরিমাণ পিএম-২.৫ এবং পিএম-১০ ক্রমাগত বেড়ে চলেছে. এটি সরাসরি মানুষের স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগের মতো একাধিক জটিল অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের। এই পরিস্থিতিতে দূষণ নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ কতটা কার্যকর, তা জানতে চেয়েছে ট্রাইব্যুনাল।
ন্যাশেনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, দূষণ রোধে বিভিন্ন নীতি ও নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও সেগুলির বাস্তব প্রয়োগে ঘাটতি স্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রেই নিয়ম কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না, যার ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রক এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বর্তমান পদক্ষেপ, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে গৃহীত উদ্যোগের বাস্তব অগ্রগতি তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বায়ুদূষণের প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্পাঞ্চল থেকে নির্গত দূষণ, নির্মাণকাজের ধূলিকণা, খোলা জায়গায় আবর্জনা পোড়ানো এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব। এই সমস্যাগুলি দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও কার্যকর সমাধানের অভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। পরিবেশবিদদের একাংশের মতে, শুধু নীতি প্রণয়ন করলেই চলবে না, তার কঠোর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে এবং পরিবেশবান্ধব অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এই পরিস্থিতিতে ন্যাশেনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল-র নোটিস কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াবে বলেই মনে করা হচ্ছে।