ওঙ্কার ডেস্ক: সালটা ছিল ২০১৭। রথযাত্রার দিন ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে বেরিয়েছিলেন স্বামী। অভিযোগ, সেই সময় গুজরাটের সবরমতী রিভারফ্রন্টে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীকে তুলে নদীর বুকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। সেই ঘটনার নয় বছর পর অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল পুলিশ। প্রাথমিকভাবে এটি দুর্ঘটনা বলে মনে করা হলেও, তদন্তে বেরিয়ে আসে এটি ছিল স্বামীর পরিকল্পিত ও ঠান্ডা মাথার খুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম কোমলবেন সোলাঙ্কি। ২০১৭ সালের ওই মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করে আহমেদাবাদ সিটি ক্রাইম ব্রাঞ্চ। গোয়েন্দারা ক্রমে রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন। তাঁর স্বামী মিনেশ দিনেশভাই সোলাঙ্কিকে (৩১) অবশেষে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, ২০১৭ সালের ২৫ জুন রথযাত্রার দিন মিনেশ তাঁর স্ত্রীকে শহর ঘোরানোর অজুহাতে বাইরে নিয়ে যান। সারাদিন শহরের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার পর, গভীর রাতে তিনি স্ত্রীকে সবরমতী রিভারফ্রন্টে নিয়ে যান। সেখানে কথাবার্তা বলার সময় সুযোগ বুঝে তিনি স্ত্রীকে হঠাৎ শূন্যে তুলে ধরে সরাসরি নদীতে ছুঁড়ে ফেলে দেন। শুধু তাই নয়, নিজের অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরদিন কালুপুর থানায় গিয়ে স্ত্রীর নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দায়ের করেন।
যদিও কয়েক ঘণ্টা পর কোমলবেনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সেই সময় দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর মামলা দায়ের করে পুলিশ। কিন্তু প্রায় এক দশক পর আসল ঘটনা প্রকাশ্যে আসে প্রযুক্তিগত তথ্য ও পুরনো সাক্ষীদের বয়ান খতিয়ে দেখার পর। তদন্তে উঠে আসে বিয়ের মাত্র চার মাসের মধ্যেই পারিবারিক কলহ চরমে পৌঁছয় মিনেশ ও তাঁর স্ত্রীর মধ্যে। তার পর অতিষ্ঠ হয়ে অভিযুক্ত এই ঘটনা ঘটায়। ক্রাইম ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা মিনেশকে গ্রেফতার করেছেন ইতিমধ্যে। ধৃতের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।