ওঙ্কার ডেস্ক: গুজরাটের মেহসানা জেলায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোনার গয়নার লোভে এক মহিলাকে খুন করে তাঁর কান কেটে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে এক ব্যক্তিকে। ঘটনাটি শুধু বর্বরতার দিক থেকেই নয়, সমাজের নিরাপত্তা ও মানবিকতার প্রশ্নেও গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতা ৫৪ বছর বয়সি শারদাবেন ঠাকোর। গত ২০ মার্চ সকালে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটি বাগানে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং শেষপর্যন্ত থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেন। এরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন বাগানের ভিতরে একটি লেবুগাছের নীচে সন্দেহজনকভাবে খোঁড়া মাটি চোখে পড়ে পুলিশের। সেই জায়গাটি খুঁড়তেই উদ্ধার হয় মহিলার দেহ। দেহটি ছিল বিকৃত অবস্থায়, এবং তাঁর দু’টি কান কেটে নেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা যায়। এই নির্মমতার দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন তদন্তকারীরাও।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মহিলার কানে থাকা সোনার দুল লুট করার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। জানা গিয়েছে, তাঁর কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকার গয়না খোয়া গিয়েছে। এই সূত্র ধরেই তদন্তের গতি বাড়ায় পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে, এক ব্যক্তি চুরি করা গয়না বিক্রির চেষ্টা করছে। সেই সূত্র ধরে সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতের নাম শচীনকুমার মুকুন্দভাই দান্তানি। তাঁর কাছ থেকে খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র এবং লুট করা গয়নার কিছু অংশ উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশি জেরায় অভিযুক্ত নিজের দোষ স্বীকার করেছে বলে জানা গিয়েছে। আর্থিক সংকটের জেরেই সে এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে। বর্তমানে তাকে পুলিশ হেফাজতে রেখে আরও জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে, যাতে ঘটনার সমস্ত দিক পরিষ্কারভাবে সামনে আনা যায়। এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন নৃশংস অপরাধের দ্রুত ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।