অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: ইউনেস্কোর নাম ভাঙিয়ে পাস বিক্রির অভিযোগে বর্তমানে স্ত্রী-ঘরে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে রাজনৈতিক মহলের একাধিক ব্যক্তিকে। এবার প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুর তুলতে ময়দানে নামলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। যিনি বর্তমানে এনসিপিআই সাংসদ। তাঁর অভিযোগ, ইন্দ্রনীল ক্ষমতায় থাকাকালীন চন্দননগরেই ঢুকতে পারতেন না তিনি। অথচ তিনিই হুগলির নির্বাচিত সাংসদ। রচনার কথায়, ইন্দ্রনীল পছন্দ করতেন না তিনি চন্দননগরে যাক।
শুক্রবার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের বিজয়া সম্মিলনীতে আমন্ত্রিত ছিলেন রচনা। সেখানে তিনি জানান, সাংসদ হওয়ার পর এই প্রথম চন্দননগরের কোনও সরকারি অনুষ্ঠানে ডাক পেলেন তিনি। রচনার কথায়, “ইন্দ্রনীলবাবুর গ্রেফতারি নিয়ে আমি বেশি কিছু বলব না। পুলিশ তার কাজ করেছে। ওঁকে আমি খুব ভালো করে চিনতামও না। উনি আমার এলাকার বিধায়ক ছিলেন ঠিকই, কিন্তু আমি কোনওদিন চন্দননগরে যেতে পারিনি। কারণ উনি পছন্দ করতেন না। ওঁর আমন্ত্রণ ছাড়া আমি যাই, এটা উনি চাইতেন না।”
সাংসদের আরও দাবি, বিষয়টি তিনি চন্দননগরের মানুষকেও জানিয়েছিলেন। “যখনই দু-একবার চন্দননগরে এসেছি, মানুষের কাছে দুঃখপ্রকাশ করেছি। বলেছি, চাইলেও আসতে পারি না। বিধায়ক বলতেন, ‘আমি যখন বলব তখন সাংসদ আসবেন, না হলে নয়’। তাই আসা হতো না,” বলেন রচনা।
তবে ইন্দ্রনীল তাঁর কাজে সরাসরি বাধা দিতেন বলে অভিযোগ করেননি রচনা। তিনি বলেন, “ওই মানুষটাকে নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না। একসঙ্গে ভালোভাবে কাজ করতে পারিনি। এখন আমি সেই দলের কেউ নই, তাই ওঁদের নিয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়। উনি আমার কাজে বাধা দিতেন না, শুধু পছন্দ করতেন না যে আমি ওঁর এলাকায় গিয়ে কাজ করি। দলের কর্মীরাও আমাকে সেকথা জানিয়েছিলেন। বাকি সব বিধায়কের সঙ্গেই আমার সম্পর্ক ভালো ছিল।”
একইসঙ্গে ইন্দ্রনীলের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কটাক্ষ করেন রচনা। তাঁর মতে, সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে ইন্দ্রনীল পরিচিতি পেলেও রাজনীতিক হিসেবে সফল হতে পারেননি।