অর্পিতা মুখার্জী, কলকাতা: রামলীলা ময়দানে রবিবার বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র ডাকা মেগা সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশিকা জারি করল দিল্লি পুলিশ। শনিবার পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, রবিবার, ১ নভেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মধ্য দিল্লি-সহ একাধিক এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ, এসআইআর বাতিল এবং ২০২৩ সালের নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত সংশোধনী আইন বাতিলের দাবিতে এই সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে প্রায় ১০-১২ লক্ষ কর্মী-সমর্থক এবং ১৫ থেকে ২০ হাজার গাড়ি দিল্লিতে আসতে পারে। অথচ রামলীলা ময়দানের ধারণক্ষমতা এক লক্ষেরও কম, ফলে রাজধানীর বড় অংশে যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কোথায় কোথায় নিয়ন্ত্রণ?
দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি অনুযায়ী নেতাজি সুভাষ মার্গ টি-পয়েন্ট, রাজঘাট, দিল্লি গেট, আইটিও এ-পয়েন্ট, অজমেরি গেট, রঞ্জিত সিং ফ্লাইওভার, ঝান্ডেওয়ালান গোলচত্বর, তুর্কমান গেট, মিরদার্ড চক, বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ, জেএলএন মার্গ, ডিবিজি রোড এবং মিন্টো রোডে ট্রাফিক ডাইভারশন বা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ (আইটিও থেকে দিল্লি গেট), জওহরলাল নেহরু মার্গ (রাজঘাট থেকে অজমেরি গেট), অরুণা আসফ আলি রোড, মিন্টো রোড, দেশবন্ধু গুপ্ত রোড, বরাখম্বা রোড, কমলা মার্কেট এবং হামদর্দ চক এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে সেন্ট্রাল রেঞ্জ জুড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁরা যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, পার্কিং-এ গাড়ি পৌঁছে দেওয়া এবং রামলীলা ময়দানের চারপাশে ভিড় সামলাবেন।
পার্কিং ও জরুরি পরিষেবা
সমাবেশে আসা গাড়িগুলির জন্য হাসপাতালের বিপরীতে রেল পার্কিং এলাকা, ডিএমআরসি পার্কিং লট এবং রাজঘাটে পার্কিং-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। জরুরি পরিষেবা এবং অ্যাম্বুল্যান্সের জন্য এলএনজেপি হাসপাতালের কাছে একটি আলাদা লেন খোলা থাকবে।
নয়াদিল্লি রেলস্টেশনের যাত্রীদের আগে থেকেই যাত্রার পরিকল্পনা করতে বলা হয়েছে। ডিবিজি রোডের দিক থেকে আসা যাত্রীরা চেমসফোর্ড রোড, কনট প্লেসের আউটার সার্কেল, মিন্টো রোড ও ভবভূতি মার্গ ব্যবহার করতে পারবেন। পূর্ব দিল্লি থেকে আসা যাত্রীদের আইটিও, দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ এবং ভবভূতি মার্গ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী মিন্টো রোড-কনট প্লেস জংশন থেকে রামলীলা ময়দান পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছেন। তবে দিল্লি পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সমাবেশের জন্য অনুমতি থাকলেও আলাদা করে মিছিলের কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি।