সুনন্দা দত্ত, হুগলি : জীবনের প্রথম পাঠশালা মায়ের আঁচল, হাজার কষ্টেও ভালোবাসার চাদরে জড়িয়ে একটি শিশুকে মা বড় করে তোলে। জীবনযুদ্ধে লড়াই করার শিক্ষা দেয়। মাথা তুলে দাঁড়ানোর শক্তি দেয়। আর এই মায়েরা যখন বার্ধক্যে পৌঁছোয়, অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় তাঁরাই বঞ্চিত হচ্ছে সন্তানের কাছে। এমন কি আশ্রয় হারাচ্ছে। যতদিন যাচ্ছে সমাজের এই অবক্ষয় যেন বেড়েই চলেছে। অসহায় এইসব মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ান সমাজের কিছু সচেতন মানুষ। যাঁদের মধ্যে অন্যতম বিশিষ্ট শিল্পপতি ও গঙ্গা মিশনের জাতীয় সচিব প্রহ্লাদ রাই গোয়েঙ্কা। তাঁরই আনুকূল্যে সাধারণতন্ত্র দিবসের আগের দিন, রবিবার চুঁচুড়ার আরোগ্যের বৃদ্ধালয়ের দ্বিতীয় ভবনের উদ্বোধন হল। উদ্বোধন করলেন তাঁর নাতি অনয় ও নাতনি একা। উপস্থিত ছিলেন নির্মলা গোয়েঙ্কা, সঞ্জীব বাজাজ, প্রীতি বাজাজ সহ বিশিষ্ট জনেরা।

বছর কয়েক আগেই ইন্দ্রজিৎ দত্ত চুঁচুড়ায় গড়ে তুলেছিলেন একটি বৃদ্ধাশ্রম। যার নাম- আরোগ্য। বর্তমানে ৪৩জন আবাসিক সেখানে। তাদের স্বাচ্ছন্দের দিকে তাকিয়ে প্রহ্লাদ রাই গোয়েঙ্কার উদ্যোগে গড়ে উঠলো চারতলার দ্বিতীয় ভবন। এই আরোগ্য গুরুকুঞ্জ ভবনে প্রায় ৬০ জনের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিকদের সুবিধার্থে ভবনটিতে একটি লিফট রয়েছে। এখানে গঙ্গা মিশন প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করে থাকে, যার ফলে বাসিন্দারা সহজেই স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে থাকেন।

পরবর্তী প্রজন্ম অনুপ্রাণিত হোক সমাজসেবা মূলক কাজে তাই নিজের উত্তরসূরীদের বারংবার সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন তিনি। এদিনও উপস্থিত ছিলেন তাঁর নাতি অনয় ও নাতনি একা, সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তার পরিবারের বিশিষ্টজনেরা।

এদিন তিনি ঘোষণা করেন আবাসিকাদের জন্য ডাক্তার ও ফিজিওথেরাপিস্ট এর ও ব্যবস্থা করা হবে। অন্যদিকে আরোগ্যের অন্যতম কর্ণধার ইন্দ্রজিৎ দত্ত জানান, “আবাসিকাদের ভালো রাখার জন্য নানা রকম ব্যবস্থা করা হয়েছে, সঙ্গীত শিল্পী,বাচিক শিল্পী, সহ পরিচালন কমিটির সদস্যরা প্রতিনিয়ত তাদের মনোরঞ্জন করেন। সম্প্রতি আবাসিক ভবনে স্থান গ্রহণ করেছেন জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা।সকাল থেকেই তাই আবাসিকেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন পূজার সঙ্গে ভজন কীর্তনে। সব মিলিয়ে আবাসিকেরা জানিয়েছেন খুব আনন্দে দিন কাটান তারা।

বৃদ্ধাশ্রম গড়ে ওঠার মধ্যে কোথাও লুকিয়ে সমাজের অবক্ষয়…. তবু সৃষ্টি যেমন আছে অবক্ষয় ও আছে ….কিন্তু নিরাপত্তা ? মানুষের জীবনের যে অন্যতম প্রধান চাহিদা। আরোগ্যের হাত ধরে ভর দেওয়ার লাঠির সন্ধান তো মিলেছে ওই বৃদ্ধা মায়েদের।চোখের জলে ধুয়ে গিয়েছিল যাদের জীবন, তারাও জগন্নাথ ধামের সুগন্ধের শুদ্ধতায় খুঁজে পেয়েছেন নতুন জীবন।
