নিলয় ভট্টাচার্য, নদিয়া : পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম একটি তীর্থস্থান নদিয়ার নবদ্বীপ। বহু জায়গা থেকে বহু মানুষ এখানে আসেন। আর এই নবদ্বীপের গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতু হল গৌরাঙ্গ সেতু। প্রায় ৪৫ দিন ধরে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ এই গৌরাঙ্গ সেতু। ফলে তার প্রভাব পড়ছে শান্তিপুরের ফেরিঘাট গুলিতে। শান্তিপুরের দুই গুরুত্বপূর্ণ ফেরিঘাট কালনা এবং গুপ্তিপাড়ায়। বড় ছোট এবং মাঝারি যানবাহনের লম্বা লাইন পড়ছে এই ফেরিঘাটগুলিতে। আর এই লাইনে ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে পণ্য বোঝাই গাড়ি গুলিকে।
পূর্ব বর্ধমান এবং কালনার যোগাযোগের একমাত্র ওভারব্রিজ ছিল নবদ্বীপের এই গৌরাঙ্গ সেতু। বেশিরভাগ যানবাহন নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ সেতু দিয়ে যাতায়াত করতো। সেই ব্যস্ততম সেতুর সমস্যা জনিত কারণে এবং মেরামতের জন্য ৪৫ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় পরিবহন দপ্তর। সেই নির্দেশিকা জারি হওয়ার পর একাধিক গাড়ি দেখা যায় শান্তিপুরের কালনাঘাট এবং গুপ্তিপাড়া ঘাট দিয়ে পারাপার হতে। যার কারণে অনেকটা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে পণ্য বোঝায় গাড়িগুলিকে। ঘন্টার পর ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে তাদের।
পাশাপাশি, গাড়ি চালক আদাবুল শেখ বলেন, “কাঁচা সবজি নিয়ে যেতে অসুবিধা হচ্ছে। ফলে গাড়ি ভাড়া বাড়াতে হচ্ছে।“ ফেরিঘাটের কর্মী শিবেন দত্ত বলেন, “এই ঘাট দিয়ে আগে ২৪ ঘণ্টায় ৬০-৭০ টা গাড়ি চলাচল করত। কিন্তু এখন প্রচুর গাড়ি যাতায়াত করছে। ফলে যানজটের সমস্যা হচ্ছে। যদি শান্তিপুরে ভাগীরথী নদীর উপর একটি ব্রিজ তৈরি করা হয় তাহলে সাময়িক এই দুর্ভোগ গুলি আর থাকবে না।“
সম্প্রতি শান্তিপুরের কালনা থেকে ভাগীরথী নদীর উপর দিয়ে ব্রিজ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রাজ্য সরকার। মাটি পরীক্ষার কাজ শেষ হলেও এখনো পর্যন্ত কবে এই ব্রিজের কাজ শুরু হবে তা নির্ধারণ করা হয়নি। পূর্ব বর্ধমান এবং কালনার পাশাপাশি, বর্ধমান এবং হুগলীর যাতায়াতের একমাত্র সেতু নবদ্বীপ গৌরাঙ্গ ব্রিজ। সেই কারণে অত্যন্ত প্রয়োজন এখন ভাগীরথী নদীর উপর দিয়ে আরেকটি ব্রিজের। এখন দেখার শান্তিপুরের ভাগীরথী নদীর উপর দিয়ে ব্রিজ তৈরির কত তাড়াতাড়ি সিদ্ধান্ত নেয় পরিবহন দফতর।
