ছানি বা Cataract হল চোখের ভেতরের স্বচ্ছ লেন্স ঘোলা হয়ে যাওয়া। এটি সাধারণত ধীরে ধীরে হয় এবং শুরুতে অনেক সময় বোঝাও যায় না।
ছানি পড়ার সম্ভাব্য লক্ষণগুলো
- চোখে ঝাপসা বা কুয়াশার মতো দেখা
- আগের তুলনায় রাতে বা কম আলোতে দেখতে অসুবিধা হওয়া
- গাড়ির হেডলাইট বা আলোর দিকে তাকালে বেশি ঝলকানি লাগা বা আলোর চারপাশে হ্যালো দেখা
- রং আগের তুলনায় ফিকে মনে হওয়া
- একই জিনিস দেখতে বারবার চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করতে হওয়া
- কখনও একটি চোখে ডবল ছবি দেখা
তবে এসব লক্ষণ অন্য চোখের রোগেও হতে পারে। তাই চোখের ডাক্তার (Ophthalmologist)-এর মাধ্যমে চোখ পরীক্ষা করানোই নিশ্চিত হওয়ার উপায়।
কী কী সাবধানতা নেবেন ?
ছানি সম্পূর্ণভাবে প্রতিরোধ করার নিশ্চিত উপায় নেই। তবে কিছু অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে বা ছানি হওয়ার গতি ধীর করতে সাহায্য করতে পারে।
রোদে বাইরে গেলে UV-প্রতিরোধী সানগ্লাস এবং সম্ভব হলে টুপি ব্যবহার করুন।
ধূমপান করলে তা বন্ধ করার চেষ্টা করুন।
ডায়াবেটিস থাকলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
চোখে আঘাত লাগতে পারে এমন কাজ, যেমন মেশিন বা পাওয়ার টুল ব্যবহার করার সময় প্রটেকটিভ চশমা ব্যবহার করুন।
শাকসবজি, ফল, বাদাম ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবারসহ সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
নিজের ইচ্ছায় কোনো ছানির ড্রপ, ভেষজ ওষুধ বা ঘরোয়া উপাদান চোখে দেবেন না।
নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান, বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে।
ছানি হয়ে গেলে কি ওষুধে সেরে যায় ?
বর্তমানে তৈরি হয়ে যাওয়া ছানি সরানোর নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা হল অস্ত্রোপচার। তবে শুরুতে ছানি খুব কম হলে নতুন চশমা, ভালো আলো বা ম্যাগনিফায়ার দিয়ে কিছুদিন দৈনন্দিন কাজ সহজ হতে পারে। যখন ছানির কারণে পড়া, টিভি দেখা, চলাফেরা বা অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হতে থাকে, তখন চক্ষু বিশেষজ্ঞ অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিতে পারে।
চোখে ঝাপসা দেখা শুরু হয়ে থাকলে নিজে থেকে ওষুধ না নিয়ে একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের কাছে চোখের পূর্ণ পরীক্ষা করানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।