নিজস্ব সংবাদদাতা : ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিস ইস্যু করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কারণ, কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ভোটগণনার দিন বিজয় মিছিলে ছোড়া বোমার আঘাতে নিহত হয়েছিল বছর দশেকের শিশু তমন্না খাতুন। ঘটনার পরে নিহতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করতে দলের অনুমতি ছাড়াই হুমায়ুন গিয়েছিলেন তামন্নার বাড়ি। এই নিয়েই ক্ষুব্ধ হয় তৃণমূল নেতৃত্ব।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তৃণমূলের রাজ্য নেতৃত্ব হুমায়ুনকে চিঠি পাঠিয়ে তিনদিনের মধ্যে ব্যাখ্যা চেয়েছিল। রবিবার হুমায়ুন সেই শোকজের জবাব জমা দিয়েছেন। সোমবার তিনি নিজেই জানিয়েছেন, দলের কাছে জবাব পৌঁছে গেছে। তবে সেই চিঠিতে তিনি কী লিখেছেন, সে বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, হুমায়ুন তাঁর জবাবে কোথাও ভুল স্বীকার করেননি বা দুঃখপ্রকাশও করেননি। বরং তিনি কেন নিহত কিশোরীর বাড়িতে গিয়েছিলেন, সেই বিষয়টিই বিস্তারিত লিখে ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
ঘটনা প্রসঙ্গে জানা গিয়েছে, কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের গণনা চলাকালীন বিজয় মিছিল থেকে ছোড়া সকেট বোমার আঘাতে মারা যায় দশ বছরের তামন্না। অভিযোগ, উপনির্বাচন ভোটে জেতার পর তৃণমূল সমর্থকরা সিপিএম কর্মীদের বাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছুঁড়েছিল। ঘটনার পরে তামন্নার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বুধবার নিহতের বাড়িতে গিয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন আর্থিক সাহায্যের আশ্বাসও। কিন্তু মৃত তামন্নার মা সাবিনা বিবি স্পষ্ট জানান, টাকা নেবেন না তিনি। তিনি জানান টাকার দরকার নেই তাদের। তিনি শুধু চান, দোষীদের শাস্তি হোক। এমনকি তামন্নার পরিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিল, বিজয়ী তৃণমূল প্রার্থী আলিফা আহমেদ একবারও তাঁদের বাড়ি যাননি।
হুমায়ুন জানান, তিনি কোনও রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, নিজের ব্যক্তিগত অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকেই নিহতের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য করতে গিয়েছিলেন। তিনি আরও জানিয়েছেন, তামন্নার পরিবার সেই অর্থ নিতে অস্বীকার করেছে, এই কথাও শোকজের জবাবে স্পষ্ট লিখে দিয়েছেন তিনি। বিধানসভার অধিবেশন থেকে শুরু করে নানা ইস্যুতে আগেও দলের অস্বস্তির কারণ হয়েছেন প্রাক্তন এই পুলিশকর্তা। এর আগে দিঘায় জগন্নাথ মন্দির নির্মাণে রাজ্যের ব্যয় নিয়ে বিধানসভায় প্রশ্ন তুলে দলের মধ্যে ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। তখনই বিধানসভায় প্রশ্ন করার আগে পরিষদীয় দলের ছাড়পত্র নেওয়ার নিয়ম চালু করতে হয়।
এ দিকে হুমায়ুনের পাশাপাশি তৃণমূলের আরেক বিধায়ক মদন মিত্রও শোকজ নোটিসের মুখে পড়েছেন। কসবার সরকারি ল’ কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে শাসকদলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন মদন মিত্র। তাঁর মন্তব্যকে তৃণমূল নেতৃত্ব ‘ব্যক্তিগত’ আখ্যা দিলেও দলের ভাবমূর্তিতে আঘাত লাগার আশঙ্কায় মদন মিত্রকেও তিনদিনের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
