ওঙ্কার ডেস্ক: কলকাতায় রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের সাম্প্রতিক অভিযানের জেরে। বৃহস্পতিবার সকালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি অভিযান চালায় রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাকের কলকাতার দফতর ও সংস্থার শীর্ষ কর্তা প্রাতিক জৈনের বাড়িতে। এই অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। অভিযানের সময়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং রাজনৈতিক তথ্য বাজেয়াপ্ত করার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান চালানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার এবং শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভোটের আগে বিরোধীদের দমিয়ে রাখতেই বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নামানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।
ঘটনাস্থলেই কিছুক্ষণ অবস্থান করে মুখ্যমন্ত্রী তদন্তকারী আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আই-প্যাকের কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। এই ঘটনার প্রতিবাদে তিনি রাস্তায় নামার ঘোষণা করেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শুক্রবার কলকাতার রাজপথে মিছিল করে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হবে। সেই কর্মসূচিতে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দেবেন।
এদিকে ইডি অভিযানের প্রতিবাদে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। কোথাও কোথাও যান চলাচলেও প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে দিল্লিতেও তৃণমূলের সাংসদেরা কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হন, যা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ে।
এই অভিযানের সময় এবং মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন করে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের ছবি তুলে ধরেছে। ভোটের আবহে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার ভূমিকা এবং তার রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আগামী দিনে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত আন্দোলন এই বিতর্ককে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।
