স্পোর্টস রিপোর্টার : প্রিয় সমর্থক রাহুলের স্মৃতিতে আবেগে ভাসছে গ্যালারি, অন্যদিকে মাঠে ১০ জন নিয়ে লড়াই, সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এক অবিস্মরণীয় সন্ধের সাক্ষী থাকল ইস্টবেঙ্গল। বেঙ্গালুরু এফসি-র বিরুদ্ধে তিনবার পিছিয়ে পড়েও, শেষমুহূর্তে গোল করে ৩-৩ ড্র করল লাল হলুদ ব্রিগেড।তাতে উঠে এল লিগ তালিকার তিন নম্বরেও।
ম্যাচের শুরু থেকেই যুবভারতীর গ্যালারিতে ছিল আবেগঘন পরিবেশ। ম্যাচের ১২ মিনিটে আশিক কুরুনিয়ানের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি ইস্টবেঙ্গল। ২১ মিনিটে কর্নার থেকে আনোয়ার আলির ব্যাক ভলিতে সমতা ফেরে। কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ২৪ মিনিটে, মিগুয়েল ফিগুইরা লাল কার্ড দেখায় ১০ জনে পরিণত হয় লাল হলুদ। সহকারী কোচ আদ্রিয়ান রুবিওও পরে লাল কার্ড দেখেন, গরমের রাতে আরও যেন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ম্যাচ! সংখ্যায় কম হয়েও লড়াই ছাড়েনি ইস্টবেঙ্গল। ৩৯ মিনিটে সুরেশ সিং ওয়াংজামের গোলে আবার এগিয়ে যায় বেঙ্গালুরু। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ মিনিটে সল ক্রেসপোর গোলে ফের সমতায় ফেরে ইস্টবেঙ্গল।
৭১ মিনিটে রায়ান উইলিয়ামস গোল করে আবার এগিয়ে দেন বেঙ্গালুরুকে। যেন পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকে ম্যাচ। ঘরের মাঠে খোঁচা খাওয়া বাঘের মতোই শেষপর্যন্ত লড়়াই চালিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। সব আশা যখন প্রায় শেষ ধরেই নিয়েছিলেন সমর্থকরা, তখনই নাটকীয় প্রত্যাবর্তন। সংযুক্ত সময়ের সপ্তম মিনিটে অ্যান্টন সয়বার্গের গোল ইস্টবেঙ্গলকে তৃতীয়বারের মতো সমতায় ফেরে। যে স্ট্রাইকারকে এতদিন সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, তিনিই হয়ে ওঠেন ম্যাচের নায়ক। প্রায় ৭০ মিনিট ১০ জনে খেলে এই লড়াই শুধু একটা ড্র নয়, হার না মানা মানসিকতার লড়াইয়ের প্রতীক হয়ে রইল। ম্যাচ শেষে কোচ অস্কার দলের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট হয়ে সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান। এই ড্র-এর ফলে লিগ টেবিলে ১৫ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে উঠে এল ইস্টবেঙ্গল।গ্যালারির আকাশে এক বিষন্ন সূর্যোদয়, লাল-হলুদ হৃদয়ে অমর ‘ অরুণোদয়’। রাহুল সশরীরে গ্যালারিতে না থাকলেও, তাঁর আশীর্বাদ যে তাঁর প্রিয় দলের জন্য ছিল, সেটা ফুটবলারদের শেষপর্যন্ত লড়াইয়ে ধরা পড়েছে। ১০ জনে মিলে ৩-৩ ড্র করে ১ পয়েন্ট নিয়ে মাথা উঁচু করে মাঠ ছেড়েছেন লাল হুলদ ফুটবলররা। রাহুলের আত্মা যেখানেই থাকুন, তিনি নিশ্চয়ই খুশি হয়েছেন দলের এই পারফরমেন্সে।
ফুটবলারদের লড়াই, সমর্থকদের গোটা ম্যাচে পাশে থাকার কথা ম্যাচ শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে ইস্টবেঙ্গল কোচ অস্কার ব্রুজোঁর কথাতেই উঠে এসেছে। কিন্তু মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখানোর সিদ্ধান্ত ঠিক ছিল না কিনা, এই প্রশ্নে অস্কার মেজাজ হারিয়ে বিষ্ফোরক মন্তব্য করলেন, যা তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে। ফেডারেশনের শৃঙ্খলারক্ষাকারী কমিটি কড়া ব্যবস্থা নিলে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

অস্কারের প্রতিক্রিয়া, ‘ এসব নিয়ে মন্তব্য করলে আমার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ আনা হতেই পারে। আমি গতকালই বলেছিলাম, এমন সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, যা ফুটবলের পরিপন্থী। আমাদের ম্যাচের আগে বেঙ্গালুরু এফসির স্যাঞ্চেজের নির্বাসেনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। আর এদিন মিগুয়েলের সঙ্গে যেটা ঘটেছে, সেটা খুব খারাপ। বেঙ্গালুরুর কোচিং স্টাফ মিগুয়েলকে পর্তুগীজ ভাষায় ‘ভিদাও’ বলে কটূ্ক্তি করেন, যার অর্থ সমকামী। এতে মেজাজ হারায় মিগুয়েল। প্রত্যাঘাত করে এইধরনের প্রোভোকেশনে পড়ে। আমার দাবি, স্যাঞ্চেজের সাসপেনশনের মতো মিগুয়েলের লাল কার্ডের শাস্তি প্রত্যাহার করা হোক। সেটা যদি না করায় হয়, তাহলে বুঝতে হবে, এর পিছনে অন্য খেলা চলছে। আর এই কথা বলার জন্য যদি আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে, বুঝতে হবে, আমি যেটা বলছি সেটাই ঠিক। রেফারিংয়ের নিরপেক্ষতা নিয়ে সংশয় আরও বাড়বে।ফুটবলারদের বলেছিলাম হাল না ছাড়তে। বিরতিতে বলি, সমর্থকরা তোমাদের ওপর অনেক প্রত্যাশা রাখে। ওরা তোমাদের প্রেরণা জুগিয়ে চলেছে সারাক্ষণ চিৎকার করে। ওদের সঙ্গে নিজেদের কানেক্ট করো। সেরা দাও শেষপর্যন্ত। ফুটবলাররা সেটাই করেছে। ১০ জনে খেলে ড্র করাটা নিঃসন্দেহে কৃতিত্বের। কিন্তু ১ পয়েন্টে খুশি নই। কারণ এটা জেতা ম্যাচ ছিল। মিগুয়েলকে লাল কার্ড দেখিয়ে অণ্যায়ভাবে বের করে না দিলে, ৩ পয়েন্ট পাওয়া নিশ্চিত ছিল। তবে ১ পয়েন্ট পেয়ে লিগ টেবিলের ৩ নম্বরে থেকে লড়াইয়ে থাকলাম।’এদিকে ইস্টবেঙ্গল শীর্ষকর্তা দেবব্রত সরকার বললেন, যখন রিলায়েন্স ছিল তখনও আমাদের বঞ্চিত করা হত আইএসএলে আর এখনও করা হচ্ছে। আমরা এই বিষয়টা নিয়ে টুর্নামেন্টের পরে প্রতিবাদ জানাবো। গত ৩ বছর ধরে হয়ে আসছে। কেন আমাদের সঙ্গে এগুলো করা হচ্ছে! একটা ম্যাচ পেনাল্টি না হয়েও পেয়ে যাচ্ছে আর আমাদের প্লেয়ারকে লাল কার্ড ইচ্ছা করে দেখান হচ্ছে। কার নির্দেশে হচ্ছে!’