ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন, ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার আবহে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এমনকি তিনি এটাও জানিয়েছেন দুই দেশ ১০ দিনের সংঘর্ষ বিরতিতে রাজি হয়েছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে আমেরিক এবং ইজরায়েল যৌথভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে। একমাসের বেশি সময় ধরে যুদ্ধের পর সাময়িক বিরতিতে রাজি হয়। যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে ইরান আমেরিকার সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ১০টি শর্তের মধ্যে অন্যত্তম উল্লেখযোগ্য ছিল, লেবাননে ইজরায়েল অগ্রাসন বন্ধ করা। যুদ্ধবিরতির শর্ত না মেনেই ইজরায়েল লেবাননের উপর রক্তক্ষয়ী হামলা চালানো শুরু করে। হামলার প্রথম দিনেই ২৫০-র বেশি মানুষ নিহত হন বলে জানায় লেবাননের সরকার। এমনকি যুদ্ধে রিমোর্ট চালিত বিস্ফোরকও ব্যবহার করে ইজরায়েল, এমন দাবী তোলা হয়েছিল বেশ কিছু আন্তর্জাতিক রিপোর্টে। ইরান আমেরিকার পাশাপাশি এবার পশ্চিম এশিয়ার আর দুইটি দেশ যুদ্ধ বিরতির পথে হাঁটলে এলাকায় শান্তি ফিরবে বলে আশা করা যায়।
সূত্রের খবর, এই সম্ভাব্য বৈঠকের লক্ষ্য মূলত উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং ভবিষ্যতে বড় সংঘাত এড়ানোর পথ খোঁজা। ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিরতা বিরাজ করছে, যেখানে মাঝেমধ্যেই গোলাগুলি, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং পাল্টা অভিযানের ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে ইজরায়েলের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এই বৈঠক বাস্তবায়িত হলে তা হবে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, বহু বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের সংলাপ প্রায় অনুপস্থিত ছিল। ট্রাম্পের দাবী যদি সত্যি হয় তাহলে প্রায় তিন দশক পর মুখোমুখি আলচনায় বসবে ইজরায়েল-লেবানন। ফলে এই ধরনের উদ্যোগ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত ইজরায়েল বা লেবাননের পক্ষ থেকে এই বৈঠক নিয়ে স্পষ্ট কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং আলোচনার ফলাফল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কূটনৈতিক আলোচনা শুরু হলেও মাঠপর্যায়ে সংঘর্ষ বন্ধ না হলে স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন হবে।