ব্রিকস নেটওয়ার্কে জায়গা পেয়েছে এসএসকেএম হাসপাতাল। খবরটা পেয়েই বেজায় খুশি আনন্দ করতে ১০ লাখ টাকা বকসিস দিলেন হাসপাতাল কর্মীদের। মঙ্গলবার এসএসকেএমের নবনির্মিত উডর্বাণ-২ ‘অনন্য’ ভবনের উদ্বোধন করতে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই খবরটা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন। মঞ্চে দাঁড়িয়েই এই সাফল্যে আপ্লুত মমতা বলেন, “আপনাদের জন্য আমাদের একটা ছোট্ট কনট্রিবিউশন — যাতে সবাই মিলে একটা গেট-টুগেদার করতে পারেন, আড্ডা মারতে পারেন, মনটা একটু রিল্যাক্স করতে পারেন। টেনশন ফ্রি হওয়াটাও তো দরকার।” একইসঙ্গে তিনি জানিয়ে দেন, এই টাকার জন্য কোনও কাজ করতে হবে না, শুধুই আনন্দ করতে হবে।
গত দু’মাস ধরে এইদিনের জন্য খবরটা গোপন রাখা হয়েছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ‘অনন্য’-র উদ্বোধন মঞ্চে উঠতে খবরটা তাঁকে জানান হয়। এটা শুনেই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে এসএসকেএমের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরদের মধ্যেও। এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্তে চুপ থাকেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। হাসপাতের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত চিকিৎসক ও কর্মীদের আনন্দের জন্য ১০ লাখ টাকা উপহার ঘোষণা করেন।
ব্রিকস নেটওয়ার্কে ভারত থেকে বেছে নেওয়া ২০টি সংস্থার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে জায়গা পেয়েছে মাত্র মাত্র দু’টি প্রতিষ্ঠান। একটি পন্ডিচেরির, অন্যটি পশ্চিমবঙ্গের এসএসকেএম। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার মানকে মর্যাদা দিল। এদিন উডবার্ন-২-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগের আর্থিক খতিয়ানও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “২০১১ সালে স্বাস্থ্যখাতে বাজেট ছিল ৩,৬৮৪ কোটি টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১,৩৫৫ কোটি টাকায়। এ রাজ্যে বিনামূল্যে বাচ্চাদের হার্ট অপারেশন হচ্ছে, স্বাস্থ্যসাথী চালু হয়েছে।” কথা প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, মেডিক্লেমের ওপর জিএসটি প্রত্যাহারের দাবিও প্রথম তাঁরই ছিল। এদিন মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো আরও দৃঢ় করতে বেশকিছু প্রকল্পের সূচনা করেন।
এই প্রকল্পগুলির মধ্যে প্রথমেই বলতে হয় এসএসকেএম হাসপাতাল চত্বরে নবনির্মিত ‘উডর্বাণ-২ অনন্য’ ভবনের কথা। যেখানে থাকছে অত্যাধুনিক ব্যবস্থা। এর ফলে এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবায় নতুনত্ব আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও রয়েছে কলকাতা পুলিশ হাসপাতালের নতুন ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক, যার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২৫.৭১ কোটি টাকা। এছাড়া এদিন থেকে চালু হল লি রোডের ৭ তলা ছাত্রাবাসও। এটি নির্মাণে খরচ হয়েছে ২৪.৪৯ কোটি টাকা। রেডিওলজি বিভাগে বসানো হল অত্যাধুনিক ১২৮ স্লাইস সিটি স্ক্যান মেশিন এবং সম্পূর্ণ রোবোটিক সার্জিক্যাল সিস্টেম, যা রাজ্যে চিকিৎসাক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা পেল। এছাড়া রয়েছে নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউটের অপারেশন থিয়েটার সংস্কার, স্বাস্থ্য ভবনের নতুন অ্যানেক্স–১ এবং ড্রাগ কন্ট্রোল অধিদফতরের আধুনিক ভবনও।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নকে তাঁর সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসা যাতে আধুনিক, দ্রুত ও সুলভ হয়, তার জন্য এই প্রকল্পগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আরও উন্নত হবে।
