ওঙ্কার ডেস্ক: পহেলগাঁও কাণ্ডের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি। দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এবার দেশজুড়ে অসামরিক মহড়া করার জন্য সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, আগামী ৭ মে, অর্থাৎ বুধবার দেশের ২৭টি রাজ্য এবং আটটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ২৫৯টি জায়গায় এই মহড়া চালাতে হবে। সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ২৩টি জেলার ৩১টি জায়গাও। প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর এই প্রথম দেশজুড়ে এমন অসামরিক মহড়া করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যের কোন কোন জায়গায় এই মহড়া চালানো হবে? জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার, রায়গঞ্জ, ইসলামপুর, দিনহাটা, মেখলিগঞ্জ, মাথাভাঙা, কালিম্পং, জলঢাকা, কার্শিয়াং, কোলাঘাট, কোচবিহার, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, মালদহ, শিলিগুড়ি, গ্রেটার কলকাতা, দুর্গাপুর, হলদিয়া, হাসিমারা, খড়্গপুর, বার্নপুর-আসানসোল, ফরাক্কা, খেজুরিঘাট, চিত্তরঞ্জন, বালুরঘাট, বর্ধমান, বীরভূম, পূর্ব-পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, হুগলি, মুর্শিদাবাদে মহড়া হবে।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জেলাশাসক-সহ জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, নাগরিক সুরক্ষা কর্মীরা মহড়ায় অংশ নেবেন। মহড়ায় অংশ নিতে বলা হয়েছে এনসিসি ক্যাডেট, নেহরু যুব কেন্দ্র সংগঠনের সদস্য এবং স্কুল-কলেজের পড়ুয়াদের। সেই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার কথা মাথায় রেখে, বিমানবন্দর, রেল স্টেশন-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্যগুলো ঢেকে ফেলার প্রস্তুতিও সেরে রাখতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্য দিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের এমন নির্দেশিকা ঘিরে ছড়াচ্ছে জল্পনা। অনেকের প্রশ্ন, ভারত পাক যুদ্ধ কি তবে আসন্ন? নাকি আগেভাগে অসামরিক মহড়া করে পাকিস্তানকে চাপে রাখার কৌশল নিয়েছে ভারত সরকার?
