ওঙ্কার ডেস্ক: যুদ্ধবিরতি ভেঙে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান হামলা শুরু করেছে। এই আবহে ইরানের সেনাবাহিনীর তরফে বৃহস্পতিবার জানানো হল, তারা উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে মার্কিন ঘাঁটি ও কৌশলগত অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। বাহরাইনের পাশাপাশি কাতার ও কুয়েতে হামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান।
রিপোর্ট অনুসারে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর দাবি, এই হামলায় কুয়েতে একটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কাতারে স্যাটেলাইট অ্যান্টেনা এবং বাহরাইনে মার্কিন সেনাবাহিনীর জ্বালানি ট্যাঙ্কে আঘাত করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হামলায় ‘বিভিন্ন ধরণের ড্রোন’ ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি জানিয়েছে, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ‘কোনও অবস্থাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বোধ প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হতে দেবে না’।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, গত দুই দিনে মার্কিন বাহিনী ইরানের পাঁচটি প্রদেশে হামলা চালিয়েছে। যার ফলে ১৪ জন নিহত এবং ৭৮ জন জখম হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে এসব হামলার ঘটনায় কাতারের তরফে দ্রুত কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। সে দেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ মহম্মদ বিন আব্দুলরহমান বিন জসিম আল থানি ইরানের বিদেশ মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে ফোনালাপে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। কাতারের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড পারস্পরিক আস্থা ক্ষুণ্ণ করে, আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে। এ ছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা সুসংহত করার চেষ্টাকে বিঘ্নিত করে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কাতার ও কুয়েতে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বড় সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সেখানে হামলার পর আশঙ্কা করা হচ্ছে, উপসাগরীয় দেশগুলোও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।