ওঙ্কার ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কে থাকা তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট কোন তৃণমূল ব্যবহার করবে সেই নিয়ে মামলায় রায় জানালো কলকাতা হাই কোর্ট। দলের টাকা ব্যবহার করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল, কিন্তু শর্ত বেঁধে দিল আলাদত। মামলার শুনানিতে আদালত জানিয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে। তাঁর দায়িত্ব হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নথি, অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত তথ্য এবং মামলার প্রাসঙ্গিক নথিপত্র খতিয়ে দেখে আদালতে একটি নিরপেক্ষ রিপোর্ট জমা দেওয়া।
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হয়। এর আগে আদালত স্পেশাল অফিসার নিয়োগের প্রস্তাব দিলেও, সুব্রত তালুকদারের পুত্র এই মামলায় আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত থাকায় সব পক্ষের মতামত জানতে চেয়েছিল। এদিন মামলার শুনানিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে আদালত তাঁকেই স্পেশাল অফিসার হিসেবে নিয়োগের অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, স্পেশাল অফিসার সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নথি, অ্যাকাউন্টের লেনদেনের বিবরণ এবং তদন্ত সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পরীক্ষা করবেন। প্রয়োজনে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্যও শুনতে পারবেন। সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আদালতে একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে তাঁকে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মামলার পরবর্তী শুনানিতে আদালত প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের ডেবিট লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের সূত্র মিলেছে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল কংগ্রেস। দলের দাবি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং নিয়মিত আর্থিক লেনদেনও সম্ভব হচ্ছে না। এর আগে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ককে অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। পাশাপাশি তদন্তকারী সংস্থাকেও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতকে জানাতে বলা হয়। মামলার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ মূল্যায়নের স্বার্থেই স্পেশাল অফিসার নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে আদালত জানায়।
উল্লেখ্য, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস দাবি তুলেছিলেন তৃণমূলের সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়া দরকার। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূল ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। তৃণমূল কার্যত দুই ভাগে ভাগ হয়ে যায় বিধানসভায়। ঋতব্রত ৬০ জন বিধায়কদের নিয়ে নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করে বসে অন্যদিকে মমতার কাছে মাত্র এক তৃতীয়াংশ বিধায়ক থেকে যায়। দলের এই অচলাবস্থায় দলের নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়ের মাঝে দলের আর্থিক দিকটি দেখার দায়িত্ব নিয়ে অরূপ বিশ্বাস জানান যতদিন না পর্যন্ত দল ঠিক করছে দলের টাকা যেন কেউ ব্যবহার করতে না পারে। পরবর্তীতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ও জানায় তাঁরাই আসল তৃণমূল তাই দলের টাকা তাঁদের প্রাপ্য। এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার সিধান্ত নিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট।