ওঙ্কার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার আবহে দ্বিতীয় দফার সম্ভাব্য আলোচনাকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হয়েছে। জানা যাচ্ছে পাকিস্তানের উপর ভরসা রাখতে পারছে না ইরান। ইরানের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা ইসলাবাদের আমেরকা ঘেষা মনোভাবকে ইতিবাচক ভাবে নিচ্ছে না তাই তেহরান এই শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসাবে চিনকে পাশে চাইছে বলে সূত্রের খবর।
ইসলামাবাদে প্রথম দফার বৈঠকের পরেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অচলাবস্থা কাটেনি, ফলে পরবর্তী আলোচনা আদৌ কবে এবং কীভাবে হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে চীনের সম্ভাব্য ভূমিকা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, বেইজিং এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ না হলেও পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং পর্দার আড়ালে সক্রিয় যোগাযোগ বজায় রেখেছে। বিশেষ করে তেহরানের সঙ্গে চীনের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা হিসেবে চীন তাদের ওপর একটি নীরব প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম, যা আলোচনায় ফেরাতে সহায়ক হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মূল মতভেদের জায়গাগুলি এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। সামরিক উপস্থিতি, নৌ অবরোধ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থান একেবারেই ভিন্ন। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তাদের ওপর আরোপিত অবরোধ শিথিল না হলে তারা পরবর্তী বৈঠকে অংশগ্রহণে অনীহা দেখাবে। এর ফলে আলোচনার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠছে।
এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর-সহ একাধিক দেশ আলোচনাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেই প্রচেষ্টা এখনও পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনও ফল আনতে পারেনি। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, চীন যদি সরাসরি মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসে, তাহলে পরিস্থিতিতে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ, একদিকে তারা ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র, অন্যদিকে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগও খুঁজছে। তবে বেইজিংয়ের অবস্থান এখনো সতর্ক। সরাসরি এই সংবেদনশীল দ্বিপাক্ষিক বিরোধে জড়িয়ে পড়লে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে জটিলতা তৈরি করতে পারে, সে বিষয়েও তারা সচেতন। তাই আপাতত তারা নেপথ্যে থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ রক্ষা করার কৌশল নিয়েছে।