ওঙ্কার ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের মুসকাটিন শহরে এক মর্মান্তিক বন্দুক হামলার ঘটনায় সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন হামলাকারী নিজেও। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, একটি পারিবারিক বা গার্হস্থ্য বিরোধের জেরেই এই রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
সোমবার দুপুরে মুসকাটিন শহরের একটি আবাসিক এলাকায় গুলির শব্দ শোনার পর স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে একটি বাড়ির ভিতরে চারজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাদের শরীরে গুলির চিহ্ন ছিল। ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং এলাকাজুড়ে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। তদন্তের এক পর্যায়ে শহরের আরও দুটি পৃথক স্থানে আরও দু’জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, এই মৃত্যুগুলিও একই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তকারীদের ধারণা, নিহতদের অধিকাংশই একই পরিবারের সদস্য অথবা হামলাকারীর ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ছিলেন।
ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে এক ৫২ বছর বয়সি ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। তাকে খুঁজে বের করতে ব্যাপক তল্লাশি চালায় আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি। পরে শহরের একটি ট্রেইল সংলগ্ন এলাকায় তাকে ঘিরে ফেলে পুলিশ। কর্মকর্তাদের দাবি, পুলিশ তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি নিজের ওপর গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে তদন্ত এগোচ্ছে। নিহতদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনা মুসকাটিন সম্প্রদায়ের জন্য এক গভীর আঘাত। দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত এই শহরে এমন গণহত্যার ঘটনা বাসিন্দাদের হতবাক করে দিয়েছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্তকারীরা প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ জানার চেষ্টা করছেন। কী কারণে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হল এবং হামলার আগে কোনো সতর্কতামূলক ইঙ্গিত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অস্ত্রটি কীভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং হামলাকারীর অতীত সম্পর্কেও অনুসন্ধান চলছে।