খাবার নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকটের সামনে বালোচিস্তান; নেপথ্যে পাক আর্মির কারফিউ
ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশের আওয়ারান জেলার মাশকাই অঞ্চলে পাকিস্তানি নিরাপত্তাবাহিনীর জারি করা দীর্ঘস্থায়ী কারফিউ ও কঠোর চলাচল নিষেধাজ্ঞার ফলে তীব্র খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। টানা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই বিধিনিষেধের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকায় বাজার ও দোকানপাট বন্ধ থাকায় খাদ্যসামগ্রী, পানীয় জল, ওষুধ এবং অন্যান্য জরুরি পণ্য সংগ্রহ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি লোকসানের ভার বইতে হচ্ছে ব্যবসায়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে মানুষ নিজেদের বাড়ি থেকে বেরোতেও ভয় পাচ্ছেন। বহু পরিবার ইতিমধ্যেই খাদ্য মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার মুখে পড়েছে। শিশু, বৃদ্ধ এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন বাসিন্দারা। চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও হাসপাতালে পৌঁছানো বা ওষুধ সংগ্রহ করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছে না।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, এই ধরনের দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে। বালুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি) এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মাশকাই অঞ্চলের বাসিন্দাদের উপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন কার্যত স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের অভিযোগ, নিরাপত্তা অভিযানের নামে সাধারণ মানুষকে শাস্তির মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, কারফিউর কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিও বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে পড়ুয়াদের পড়াশোনায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে থমকে যাওয়ায় বহু পরিবার আয়ের উৎস হারিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। দিনমজুর ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অবস্থাই সবচেয়ে শোচনীয় বলে জানা গিয়েছে। এদিকে, ধর্মীয় উৎসব থাকলেও মানুষ প্রয়োজনীয় কেনাকাটা করতে পারছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে। পশু কেনাবেচা, বাজার করা এবং সামাজিক কার্যকলাপেও নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে।
বালুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় অতীতেও একই ধরনের অবরোধ ও কারফিউ জারি হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, নিরাপত্তা পরিস্থিতি মোকাবিলার নামে দীর্ঘ সময় ধরে সাধারণ মানুষের চলাচল ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করা হলে তার মানবিক প্রভাব অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। মাশকাইয়ের বর্তমান পরিস্থিতিও সেই আশঙ্কাকেই আরও জোরালো করছে।