ওঙ্কার ডেস্ক: মর্মান্তিক নৌকাডুবি আন্দামান সাগরে। রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশিদের নিয়ে যাওয়ার সময় সমুদ্রে উলটে গেল নৌকা। এই দুর্ঘটনার ফলে নিখোঁজ রয়েছেন ২৫০ জন। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন শিশু ও মহিলা। মঙ্গলবার জাতিসঙ্ঘের তরফে এই দুর্ঘটনার কথা জানানো হয়েছে।
এক বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) বলেছে, ‘দক্ষিণ বাংলাদেশের টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়াগামী ট্রলারটি প্রবল বাতাস, উত্তাল সমুদ্র এবং অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ডুবে গেছে।’ ইউএনএইচসিআর বলেছে, এই ঘটনা রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী এবং টেকসই সমাধানের অভাবকেই চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে নৌকাটিতে প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন এবং এটি ৪ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে যাত্রা শুরু করেছিল।
উল্লেখ্য, ময়ানমারের নির্যাতিত সংখ্যালঘু মুসলিম জনগোষ্ঠী রোহিঙ্গারা দেশে দমন-পীড়নের শিকার হয়ে ও গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পথে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজ পাড়ি দেয়। বেশিরভাগ সময় নৌকায় চেপে তারা সমুদ্রপথে যাত্রা করে। এদিন দুর্ঘটনার কবলে পড়া নৌকার যাত্রীরা বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির ছেড়ে আসছিল। প্রসঙ্গত, ময়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে প্রায় দশ লক্ষেরও বেশি শরণার্থী বাংলাদেশের কক্সবাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করছে। জাতিসঙ্ঘ বলেছে, রাখাইন রাজ্যে চলমান হিংসা রোহিঙ্গাদের ময়ানমারে নিরাপদে ফেরা অনিশ্চিত করে তুলেছে। ময়ানমারের এই রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র সংঘাত চলছে। শরণার্থী শিবিরে অমানবিক ভাবে জীবন যাপনের শিকার হওয়া শরণার্থীদের ভাল সুযোগ সুবিধা দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে অসাধু ব্যক্তিরা বিদেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আর তার জন্য সমুদ্র পথে যাত্রা করতে হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (বিসিজি) জানিয়েছে, ইন্দোনেশিয়াগামী তাদের একটি জাহাজ ৯ এপ্রিল সমুদ্র থেকে এক মহিলা-সহ নয় জনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।