ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝে বিশ্ববাজারে যখন তেলের দাম গগনচুম্বী, যার প্রভাব সারা বিশ্বে পরে গেছে, সেই মাঝে বিকল্প পথের দিকে এগোচ্ছে টেকনোলজিতে সমৃদ্ধ চিন। চিন দেশের ভিতরই বিশাল বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে তুলছে। যার কারণে দেশের বাইরের কোন শক্তির উপর নির্ভরশীলতা অনেকটাই কমাবে বেজিং।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মাঝেই একটি ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছে চীন। সরাসরি এই সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে তারা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দিকে এগোচ্ছে। চীন দেশের অভ্যন্তরে বিশাল বিদ্যুৎ পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ জোরদার করেছে, যার মাধ্যমে বিভিন্ন শক্তির উৎস কয়লা, সৌর ও বায়ুশক্তিকে একত্রিত করে একটি সুসংহত বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত তেলের উপর নির্ভরতা কমানো এবং সমুদ্রপথের ঝুঁকি এড়ানো।
আগামী কয়েক বছরে এই খাতে বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে বেজিং। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পে অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছে। নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং শিল্পক্ষেত্রে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে চীন ধীরে ধীরে এমন একটি অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তুলতে চাইছে, যেখানে বাইরের দেশ গুলির তেলের উপর নির্ভরতা অনেকটাই কমে যাবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের একটি বড় অংশ এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে যাতায়াত করে, ফলে এখানে যে কোনও অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলে আন্তর্জাতিক বাজারে। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে ইরান এই জলপথে জাহাজ চলাচলের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, যার জেরে বিশ্বজুড়ে তেলের সরবরাহ ও দামের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। উল্লেখ্য চিনের আমদানিজাত তেলের সিংহভাগ হরমুজ প্রণালী দিয়ে দেশে যায়। সেই কারনে ইরান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব চিনের দেশীয় বাজারে পড়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পরিস্থিতিতে কড়া অবস্থান নিয়েছেন। হরমুজ প্রণালীতে অবাধ জাহাজ চলাচল পুনরুদ্ধার না হলে ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে ইরানও পাল্টা কড়া মনোভাব দেখাচ্ছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি, ইরান একাধিক জাহাজের গতিবিধিতে বাধা দিয়েছে এবং বেছে বেছে কিছু দেশের জাহাজকে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে, এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিভিন্ন দেশে।
এই কৌশলগত অবস্থানের ফলে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে আন্তর্জাতিক শক্তির ভারসাম্যে। যেখানে একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে, সেখানে চীন এই পরিস্থিতিকে এড়িয়ে ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের শক্তিশালী করে তুলতে চাইছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে তেলের গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলির কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই কমে যেতে পারে। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি এবং ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।