ওঙ্কার ডেস্ক: কলম্বিয়ায় ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৩২। সোমবার সকালে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে প্রশাসনের আশঙ্কা।
জানা গিয়েছে ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল পশ্চিম কলম্বিয়ার চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার এলাকায়। রাজধানী বোগোতা থেকে এলাকাটি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে। শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় দেশের একাধিক শহরে। কালি, পেরেইরা, কুইবদো এবং মানিজালেস-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্র প্রভাব পড়ে। বহু জায়গায় বাড়িঘর, হাসপাতাল, স্কুল এবং অন্যান্য পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ১,৬০০-রও বেশি ভবন কোনও না কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্তত ৬১টি ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে পড়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে পেরেইরা এবং কালি। পেরেইরায় বহু ভবন ধসে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ে। কালিতেও একাধিক বহুতল ও অন্যান্য নির্মাণ ভেঙে পড়েছে। একটি হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসা পরিষেবায় চাপ তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্পের পরপরই বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বহু মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। কম্পনের তীব্রতায় বেশ কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। প্রত্যন্ত চোকো অঞ্চলের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক, কারণ দুর্গম জঙ্গল ও যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যার কারণে সেখানে ক্ষয়ক্ষতির সম্পূর্ণ হিসাব এখনও পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলির পক্ষে দুর্গত এলাকাগুলিতে দ্রুত পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হওয়ায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে ফিরে না গিয়ে নিরাপদ খোলা জায়গায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ধসে পড়া বাড়ির নিচে কেউ আটকে রয়েছেন কি না, তা খুঁজে দেখতে উদ্ধারকারী দলগুলি ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ শুরু করেছে। উদ্ধারকাজে পুলিশ, দমকল এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও হাত লাগিয়েছেন।