ওঙ্কার ডেস্ক: আরজি কর-কাণ্ডের তদন্তে ফের বড়সড় মোড়। ঘটনার দুই বছর পর তথ্যপ্রমাণ নষ্ট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র এবং দেহ সৎকারের সময় অনিয়মের অভিযোগকে সামনে রেখে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশের পর নিহত চিকিৎসকের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা রুজু করা হয়েছে। নতুন মামলায় পানিহাটির তৎকালীন বিধায়ক নির্মল ঘোষ, সোমনাথ দে এবং সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের নাম রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে।
নতুন তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে মৃত চিকিৎসকের দেহ সৎকারের গোটা প্রক্রিয়া। অভিযোগ, ঘটনার দিন নাটাগড় কদমতলা শ্মশানে দাহের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যতিক্রম করা হয়েছিল। শ্মশানের রেজিস্টারে দাহের জন্য নির্ধারিত ক্রমে মৃতদেহের অবস্থান তিন নম্বরে থাকার কথা থাকলেও পরে সেটি এক নম্বরে করে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কেন এই পরিবর্তন করা হয়েছিল, কার নির্দেশে করা হয়েছিল এবং সেই সময় কারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজবে তদন্তকারী সংস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, মৃতদেহ দ্রুত দাহ করার ক্ষেত্রে একাধিক অনিয়ম হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় অর্থ দেওয়া হয়েছিল কি না, দাহকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং সেই নথিতে পরিবারের সদস্যদের সম্মতি বা স্বাক্ষর ছিল কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। নতুন এফআইআরে নাম থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ লোপাট, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র-সহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৯ অগস্ট আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনা গোটা রাজ্য তথা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিসরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছিল। ঘটনার পর থেকেই তদন্তের পদ্ধতি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা, পুলিশের প্রাথমিক পদক্ষেপ এবং মৃতদেহ সৎকারের প্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছিল। এবার সেই প্রশ্নগুলিরই কয়েকটি নতুন করে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। আরজি কর-কাণ্ডের মূল ধর্ষণ ও খুনের তদন্ত ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে রয়েছে। এর আগে আরজি কর-কাণ্ডের সময় দায়িত্বে থাকা কয়েক জন পুলিশ আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। তদন্তে কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।