ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল কেনার ক্ষেত্রে যে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ছাড় দিয়েছিল, তা আর নবীকরণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ছাড় মূলত একটি সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়েছিল, যাতে নির্দিষ্ট সময়সীমার আগে রফতানি হওয়া রুশ ও ইরানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছাতে পারে। সেই সময়সীমা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট তেলের চালানও গন্তব্যে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে এই বিশেষ ছাড়ের আর প্রয়োজন নেই বলেই মনে করছে ওয়াশিংটন। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং সেই সংক্রান্ত ছাড় প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে ভারতের অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করেছে। সেই পরিস্থিতিতে তেলের বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাময়িকভাবে এই ছাড় দেওয়ার কথাবলা হয়েছিল ওয়াশিংটনের তরফ থেকে। এই বিষয়ে ভারতের বর্তমান বিদেশ নীতি বড়সর প্রশ্নের মুখে পরে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসডিন্ট ট্রাম্প নিজের সমাজ মাধ্যমে লেখেন তিনি ভারতকে রাশিয়া থেকে সাময়িক তেল কেনার অনুমতি দিয়েছে। এর জেরে দেশের অভ্যন্তরে শুরু হয় চরম সমালোচনা। বিরোধী দল প্রশ্ন তোলে বর্তমানে ভারতের বিদেশ নীতি কোথায় দাঁরিয়ে যেখানে রাশিয়া থেকে তেল কিনতে আমেরিকা থেকে অনুমতি নিতে হচ্ছে নয়া দিল্লিকে।
এই বিতর্কের শুরু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়কাল থেকে। বিগত চার বছর ধরে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে লিপ্ত দুই দেশ। যুদ্ধ থামানোর জন্য রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করতে সেদেশের উপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিশ্বের নানা দেশ। সেই মুহুর্তে সস্তায় রাশিয়া থেকে প্রচুর পরিমানে তেল কেনা শুরু করে ভারত। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবী তোলে ভারতে তেল বিক্রির টাকা নিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া। সেই কারণে রাশিয়া থেকে তেরল কেনাতে বিরত থাকতে বলা হয় নয়া দিল্লিকে। কিন্তু ভারত বরাবর নিজের অবস্থানে স্থির থেকে জানিয়ে দেয় নয়া দিল্লি নিজের দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থে তেল কিনবে, কোন বহিরাগত শক্তির বশবর্তী হয়ে নয়। দিল্লির এই অবস্থানের জেরে ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপ করেছিল মার্কিন মুলুক।
বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং তেল বাণিজ্যের বড় অংশ এখনও মার্কিন ডলার ও পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে মার্কিন নীতির প্রভাব এড়ানো প্রায় অসম্ভব। ফলে এই ‘অনুমতি’র রাজনীতি প্রভাব দেশের তেল আমদানির উপর কিভাবে পরবে তা দেখার বিষয়।