ওঙ্কার ডেস্ক: কিছু মাস আগে পর্যন্ত নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার বলে আবদার করে এসেছিলেন ট্রাম্প। দাবী করেছিলেন বিশ্বে একাধিক যুদ্ধ থামানোর জন্য তিনি কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কারের যোগ্য। নোবেল শান্তি পুরষ্কার না পাওয়ায় আবার নিজের ক্ষীপ্ত, হিংস্র রুপে ফিরে প্রথমে ভেনেজুয়েলা ও পরে ইরানের উপর আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছেন ট্রাম্প। এবার সব কিছু ছাড়িয়ে পোপ লিও চতুর্দশকে অপমান করে নিজেকে যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে তুলনা করে বসেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সমাজ মাধ্যমে নিজের একটি কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত ছবি প্রকাশ করার ঠিক আগেই ট্রাম্প ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিও চতুর্দশকে-কে উদ্দেশ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। ইরান-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক উত্তেজনা নিয়ে পোপের শান্তির আহ্বান এবং যুদ্ধবিরোধী অবস্থানকে তিনি সরাসরি আক্রমণ করেন। ট্রাম্পের দাবি, পোপের এই অবস্থান দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং বিশ্বরাজনীতির বাস্তবতা বোঝার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। ট্রাম্প কড়া ভাষায় অপমান করেন পোপ লিও চতুর্দশকে। তিনি আরও বলেন তিনি পোপের সমর্থক নন।
উল্লেখ্য মন্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই ট্রাম্প নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নির্মিত ছবি শেয়ার করেন প্রেসিডেন্ট। যেখানে তাঁকে যিশুখ্রিষ্টের অবয়বে দেখা যায়। ছবিতে তাঁকে যিশুর মতো পোশাকে দেখা যায়। সেখানে ট্রাম্প বাইবেলে নির্দেশিকার মত সাদা লাল পোষাক পরিহিত হয়ে আছেন এবং তিনি এক অসুস্থ মানুষের মাথায় হাত রেখে আশির্বাদরত ভঙ্গিতে দাড়িয়ে রয়েছেন।এর সঙ্গে ঐ ছবিতে এমন কিছু প্রতীকী উপাদানও রাখা রয়েছে যা তাঁকে একধরনের ‘ঈশ্বরপ্রেরিত’ বা ‘মুক্তিদাতা’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করে হয়েছে। পাশাপাশি ছবিতে আমেরিকার পতাকাও দেখা গেছে।
ঘটনাটি সামনে আসতেই বিভিন্ন মহলে প্রবল প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। অনেকেই এই পদক্ষেপকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, যিশুখ্রিষ্টের মতো পবিত্র ব্যক্তিত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতার এই ধরনের তুলনা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং তা অনভিপ্রেত। চার্চের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।
একইসঙ্গে, এই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এবং ভ্যাটিকানের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিহাসে খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো মার্কিন নেতাকে সরাসরি পোপের বিরুদ্ধে এতটা তীব্র ভাষায় আক্রমণ করতে দেখা গেছে। ফলে এই পরিস্থিতি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।