ওঙ্কার ডেস্ক: ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আলোচনায় ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে না নিয়ে সরাসরি ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্সের উপর চাপানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি, যা রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকটি চলমান সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল। প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার আবহে এই আলোচনা ছিল সম্ভাব্য সমাধানের শেষ বড় সুযোগ। কিন্তু দীর্ঘ আলোচনার পরেও কোনও সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি, ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের আগের মন্তব্য এখন নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিয়েছে। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, চুক্তি সফল হলে কৃতিত্ব নেবেন তিনি নিজেই, আর ব্যর্থ হলে দায় বর্তাবে ভ্যান্সের উপর। সেই মন্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মিলে যাওয়ায় সমালোচকদের দাবি, এটি দায় এড়ানোর কৌশল।
দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে পারমাণবিক ইস্যুতে দুই দেশের গভীর মতপার্থক্য। আমেরিকার পক্ষ থেকে ইরানের কাছে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি চাওয়া হয় যে তারা কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। অন্যদিকে, ইরান তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার অধিকার, যুদ্ধক্ষতিপূরণ এবং কৌশলগত জলপথের উপর নিয়ন্ত্রণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনে, যা ওয়াশিংটনের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। বৈঠক শেষে ভ্যান্স জানান, আমেরিকা সৎ উদ্দেশ্য নিয়েই আলোচনায় অংশ নিয়েছিল, কিন্তু ইরানের অনড় অবস্থানের কারণেই সমাধান সম্ভব হয়নি। কোনও চুক্তি ছাড়াই মার্কিন প্রতিনিধি দলকে ফিরে আসতে হয়েছে, যা এই পর্যায়ের আলোচনার সমাপ্তির ইঙ্গিত দেয়।
দুই দেশের অবস্থান এতটাই বিপরীত ছিল যে এক দফার বৈঠকে সমাধান হওয়া কঠিনই ছিল। সেই প্রেক্ষাপটে ভ্যান্সকে আলোচনার মুখ্য প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো এবং পরে তাঁর উপর দায় চাপানোর ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এই ব্যর্থতার ফলে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার ফলে আবারও সংঘাত তীব্র হতে পারে, যা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।