ওঙ্কার ডেস্ক: সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রায়ে সমতার বার্তা দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নির্ধারণের ক্ষেত্রে কর্মরত কর্মী এবং অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীদের মধ্যে কোনও বৈষম্য করা সংবিধানের পরিপন্থী।
আদালতের মতে, মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সমাজের সব স্তরের মানুষের ওপরই সমানভাবে পড়ে। কর্মরত কর্মচারীরা যেমন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাড়তি দামের চাপে পড়েন, তেমনই অবসরপ্রাপ্ত পেনশনভোগীরাও একই অর্থনৈতিক চাপে থাকেন। ফলে তাঁদের জন্য কম হারে মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণ করা যুক্তিসঙ্গত নয়। এই প্রসঙ্গে বিচারপতিরা বলেন, ডিএ এবং ডিয়ারনেস রিলিফ (ডিআর) মূলত একই উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়। মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সামাল দিতে আর্থিক সহায়তা দেওয়াই এই ব্যাবস্থার লক্ষ্য। তাই এই দুই ক্ষেত্রেই সমান নীতি অনুসরণ করা আবশ্যক।
মামলার সূত্রপাত একটি রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে ঘিরে, যেখানে কর্মরত কর্মচারীদের তুলনায় পেনশনভোগীদের কম হারে ডিআর প্রদান করা হচ্ছিল। এই সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে আদালতে প্রশ্ন ওঠে। শুনানির সময় রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সঙ্কটের যুক্তি তুলে ধরা হলেও আদালত সেই যুক্তি মেনে নেয়নি। আদালত জানায়, আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা কখনও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে আপস করার কারণ হতে পারে না।
বিচারপতিরা আরও বলেন, সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে সকলের জন্য সমতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। কর্মরত কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা উভয়েই একই ব্যবস্থার অংশ এবং তাঁদের প্রতি আলাদা আচরণ করা হলে তা সমতার নীতির বিরোধী হবে। তাই মহার্ঘ ভাতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই দুই শ্রেণির মানুষের মধ্যে কোনও ধরনের বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করে দেয় যে, আর্থিক চাপে কোনও সরকার সুবিধা কার্যকর করার সময়সীমা বা প্রদানের পদ্ধতিতে কিছুটা পার্থক্য রাখতে পারে। কিন্তু ভাতার হারের ক্ষেত্রে কোনও বিভাজন তৈরি করা যাবে না। অর্থাৎ, সুবিধা প্রদানে বিলম্ব হতে পারে, কিন্তু হারে বৈষম্য করা যাবে না।
এই রায়ের ফলে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। একইসঙ্গে এটি রাজ্য সরকারগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, যাতে ভবিষ্যতে মহার্ঘ ভাতা সংক্রান্ত নীতি নির্ধারণে সমতার বিষয়টি অগ্রাধিকার পায়।