ওঙ্কার ডেস্ক : ইরানে শত্রু শিবিরে ঢুকে নিশ্চুপে জখম পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে গেল মার্কিন সেনাবাহিনী। রবিবার মাঝরাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনটাই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন, আরও এক বার মার্কিন বায়ুসেনার শক্তির পরিচয় দিল। প্রমাণ করে দিল, সামরিক শক্তিতে আমেরিকাই বিশ্বসেরা! একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, “আপনাদের জানাতে পেরে আমি রোমাঞ্চিত যে তিনি এখন নিরাপদে ও সুস্থ আছেন!” এই অভিযান বস্তুত ভেনেজুয়েলা থেকে যেভাবে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বেষ্টনী্র মধ্যে সে দেশের প্রেসিডেন্ট মাদুরেকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল তারই যেন পুনরাবৃত্তি। মার্কিন বিমানকে নামানোর পর তার পাইলটের খোঁজে ইরানও জোরদার তল্লাশি শুরু করেছিল। এমন কি ওই পাইলটকে জীবন্ত ধরে দেওয়ার জন্য পুরষ্কারও ঘোষণা করেছিল ইরান সরকার। ফলে সজাগ ছিল ইরানের সেনা ও নিরাপত্তা সংস্থা। তার মধ্য থেকে কীভাবে তেহরানের চোখে ধুলো দিয়ে তাদের পাইলটকে উদ্ধার করে নিয়ে গেল আমেরিকার সেনা তা বাস্তবিকই বিস্ময়কর।
জানা গেছে, ওই পাইলট মার্কিন বিমান বাহিনীর অত্যন্ত সম্মানিত ও দুঁদে কর্নেল। ইরান গুলি করে আমেরিকার যে এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল বিমান নামিয়েছিল তার পাইলট ছিলেন তিনি। শুক্রবার এই ঘটনাটি ঘটে। তারপরই ওই পাইলটের খোঁজে তৎপর হয় ইরান ও আমেরিকা।
আল জাজ়িরা জানিয়েছে, বিশেষ অভিযানের জন্য প্রশিক্ষিত কয়েকশো মার্কিন সেনাকে এই উদ্ধারকাজে লাগানো হয়েছিল। গভীর রাতে তারা ইরানে প্রবেশ। জখম পাইলটের অবস্থান চিহ্নিত করে তাঁকে উদ্ধার করেন। গোটা অভিযানটি চলে রাতের অন্ধকারে। ভোরের আগেই জখম পাইলটকে নিয়ে ইরান ছাড়ে মার্কিন সেনা। পুরো অভিযানটি নিখুঁত ভাবে ছক কষা হলেও শেষ রক্ষে হয়নি। সামান্য ভুলের জন্য ইরান ছাড়ার ঠিক আগেই মার্কিন সেনাবাহিনীর গতিবিধি টের পেয়ে যায় ইরান সেনা। ফলে প্রবল সংঘাত শুরু হয়। যদিও এই অভিযানে সফল হয় আমেরিকা। সে কারণেই ট্রাম তাঁর উল্লাস চেপে রাখেননি। জানিয়েছেন, ”পাইল়ট জখম হলেও নিরাপদে রয়েছেন। দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।”
শুক্রবারের পর থেকে ইরানের নামানো মার্কিন বি৯মানের পাইলটের খোঁজ শুরু হয়। তখন ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্টে ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছিলেন, দেশটি হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন। ট্রুথের ওই পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে দশ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে আসছে — আর ৪৮ ঘণ্টা পরেই তাদের ওপর নরক নেমে আসবে। আল্লাহর মহিমা হোক”। তবে মার্কিন সেনার এই সফল অভিযানের পর তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিল। এই অভিযান তাদের কাছে স্থল অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে একটা মহড়া হয়ে গেল। ট্রাম্প বলেছেন, “একজনও আমেরিকান নিহত বা এমনকি আহত না হয়ে আমরা যে এই দুটি অভিযানই সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরেছি, তা আবারও প্রমাণ করে যে, আমরা ইরানের আকাশে অপ্রতিরোধ্য আকাশ আধিপত্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছি”।
ট্রাম্প বলেন যে, “মার্কিন সামরিক বাহিনী তাকে ইরানের বিশ্বাসঘাতক পর্বতমালার শত্রু রেখার পেছন থেকে উদ্ধার করতে বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত কয়েক ডজন বিমান পাঠিয়েছে”। বিমানকর্মীরা তাদের অবস্থান নির্ণয় ও যোগাযোগ রক্ষার জন্য বীকন এবং যোগাযোগ যন্ত্র ব্যবহার করেন।
দ্বিতীয় অফিসারের সন্ধানে বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার ও অন্যান্য বিমান মোতায়েন করা হয়েছিল এবং উদ্ধারকার্য পরিচালনার জন্য ইরানে সৈন্য নামানো হয়েছিল। পাইলটকে উদ্ধারে ব্যবহৃত একটি হেলিকপ্টার ইরানি গুলিতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সেটি বিপদ এড়াতে সক্ষম হয়েছিল।