ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান আমেরিকার যুদ্ধের মাঝেই ইরানের মাটিতে আটকে পড়েছিল মার্কিন মুলুকের দুই ফাইটার পাইলট। প্রথম জনকে ঘটনার দিনই উদ্ধার করা হয়। কিন্তু অপর পাইলট শত্রু মাটিতে আটকা পরেছিল প্রায় দুইদিন। অবশেষে রবিবার তাঁকে উদ্ধার করা হয় ইশফাহানের নিকটবর্তী অঞ্চল থেকে। ইরান সরকারও আমেরিকার ঐ পাইলটকে খুঁজতে মরিয়া হয়ে উঠেছিল। সাধারণ মানুষের জন্য পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল তেহরানের তরফ থেকে। শত্রুদেশে কিভাবে নিজেকে বাঁচিয়ে নিজের লোকেশন সহ সব তথ্য কিভাবে পাঠালো সেই দক্ষ পাইলট? নেপথ্যে আছে ওয়াশিংটনের অত্যাধুনিক প্রশিক্ষণ, দাবী বিশেষজ্ঞ দের।
ইরানের আকাশসীমায় গত ৩ এপ্রিল মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত হওয়ার পর তার দুই আরোহীর ভাগ্য নিয়ে তৈরি হয় চরম অনিশ্চয়তা। প্রথমে এক পাইলটকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অন্য আরোহী, যিনি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিলেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা নিখোঁজ অবস্থায় শত্রু ভূখণ্ডে টিকে থাকেন। তাঁর সুস্থ থাকার এবং নিজের দেহসের ফেরা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল মার্কিন প্রশাসন।
খবর অনুযায়ী, ভূপাতিত হওয়ার পর ওই মার্কিন বিমানকর্মী নিজেকে সম্পূর্ণভাবে লুকিয়ে রাখার কৌশল নেন। ইরানের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে কখনও পাথরের ফাঁকে, কখনও গিরিখাতের আড়ালে নিজেকে গোপন রাখেন। দিনের আলো এড়িয়ে, রাতের অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরে যেতে থাকেন তিনি। এমনকি ধাওয়া এড়াতে প্রায় ৭ হাজার ফুট উচ্চতার একটি দুর্গম পাহাড়ও অতিক্রম করেন বলে জানা যায়। তার কাছে ছিল শুধুমাত্র একটি হ্যান্ডগান, যা দিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যান তিনি।
এই সময়ে ইরানের তরফে তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য মোটা অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। ফলে শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, স্থানীয় মানুষজনও তাকে খুঁজতে তৎপর হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে ওঠে, কারণ যে কোনও মুহূর্তে ধরা পড়ার আশঙ্কা ছিল প্রবল।
প্রায় ৪৮ ঘন্টা শত্রুদেশে নিজেকে তাদের থেকে বাঁচিয়ে রাখার নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ প্রশিক্ষণ, ‘সার্ভাইভাল, ইভেশন, রেজিস্ট্যান্স অ্যান্ড এস্কেপ(SERE)। মার্কিন প্রশাসনের দাবী প্রশিক্ষণই তাকে এই কঠিন পরিস্থিতিতে বাঁচিয়ে রাখে। শত্রু অঞ্চলে কীভাবে লুকিয়ে থাকতে হয়, কীভাবে খাবার ও জলের অভাবে নিজেকে সামলে নিতে হয়, এবং কীভাবে ধরা পড়া এড়াতে হয় এই সবকিছুই ওই প্রশিক্ষণের অংশ। অন্যদিকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও বিশেষ বাহিনী একযোগে তার সন্ধানে তৎপর হয়ে ওঠে। উন্নত নজরদারি প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা চলে। অবশেষে নির্দিষ্ট অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গভীর রাতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ একটি উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। শত্রু ভূখণ্ডে প্রবেশ করে দ্রুততার সঙ্গে তাকে সেখান থেকে বের করে আনা হয়।
প্রায় দু’দিনের এই দুঃসাহসিক লড়াইয়ের পর তিনি আহত অবস্থায় উদ্ধার হন। পাশাপাশি নিজের উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে আত্মরক্ষার জন্য এফ-১৫-ই স্ট্রাইক ইগলের পাইলটের ভূয়ষী প্রসংশা করেছেন ট্রাম্প। বলেছেন এই ঘটনার উপর হলিউড অ্যাকশন থ্রিলার বানানো যাবে।