ওঙ্কার ডেস্ক: শ্রমিক সঙ্কটের মুখে জার্মানি। কর্মী চাহিদা মেটাতে ভারতের তরুণদের কাজের সুযোগ দিচ্ছে দেশটি। বয়স্ক কর্মীরা অবসর নেওয়ার পর স্বাভাবিক ভাবে বহু শূন্য পদ তৈরি হয়েছে। সেই পদগুলি পূরণের জন্য যথেষ্ট তরুণ কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না জার্মান মুলুকে।আর সে কারণেই ভারতের তরুণদের সুযোগ দিচ্ছে জার্মানি।
জার্মানিতে ভারতীয়দের কাজের সুযোগটি এসেছিল অকস্মাৎ। জার্মান অর্থনীতিবিদ এবং উদ্যোগপতি হান্ডির্ক ফন উঙ্গার্ন-স্টার্নবার্গ একটি ইমেল পেয়েছিলেন ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ভারত থেকে যাওয়া সেই ইমেলের সারমর্ম ছিল: “আমাদের কাছে অনেক তরুণ, উদ্যমী কর্মী আছে যারা বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ খুঁজছে এবং আপনি এ বিষয়ে আগ্রহী কিনা আমরা জানতে চাইছি।”
তখন ফন উঙ্গার্ন-স্টার্নবার্গ দক্ষিণ-পশ্চিম জার্মানির ফ্রাইবুর্গ চেম্বার অফ স্কিলড ক্রাফটস-এ কাজ করতেন। এই বাণিজ্য সংস্থাটি দক্ষ রাজমিস্ত্রি থেকে শুরু করে ছুতার ও কসাই এর ভূমিকায় কাজের জন্য কর্মী সরবরাহ করে।
ভন উঙ্গার্ন-স্টার্নবার্গ বলেন, ‘আমাদের অনেক হতাশাগ্রস্ত মালিক ছিলেন। যারা উপযুক্ত কর্মী খুঁজে পাচ্ছিলেন না।’ তাঁর আরও সংযোজন, ‘তাই আমরা সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।’ ভারতীয় কর্মীদের কাজের সুযোগ দেওয়ার জন্য স্থানীয় কসাই সংস্থার প্রধানকে ফোন করেন তিনি প্রথমে।
২০০২ সালে যেখানে ১৯,০০০ ছোট, পারিবারিক ব্যবসা ছিল, ২০২১ সাল নাগাদ সেই সংখ্যাটা কমে দাঁড়ায় ১১,০০০-এর নীচে। দক্ষ কর্মীর অভাবে নিয়োগকর্তারা কাউকে নিয়োগ করতে পারছিলেন না। কসাইদের সংস্থার প্রধান জোয়াকিম লেডারার বলেন, ‘কসাইয়ের কাজ খুব কঠিন। গত প্রায় ২৫ বছর ধরে তরুণরা অন্য দিকে ঝুঁকছে।’ ভন উঙ্গার্ন-স্টার্নবার্গকে মেল পাঠানো ভারতীয় সংস্থার নাম ছিল, ম্যাজিক বিলিয়ন। ওই সংস্থা ১৩ জন তরুণকে জার্মানি পাঠাতে সক্ষম হয়। ২০২২ সালের তারা জার্মানিতে পৌঁছায়। সুইজারল্যান্ড সীমান্তবর্তী ছোট শহরগুলোতে কসাইখানায় কাজ শুরু করব। সেই ১৩ জন থেকে শুরু করে এখন ২০০ জন তরুণ ভারতীয় জার্মানির মাংসের দোকানে কাজ করছেন। শুধু কসাইখানায় নয়, বেকারিতেও বহু ভারতীয় কাজের সুযোগ পেয়েছেন। রাস্তা নির্মাণ, মেকানিক, রাজমিস্ত্রি-সহ আরও বহু পেশায় ভারতীয়রা আছেন।
উল্লেখ্য জার্মানি এবং ভারত দুই দেশ ২০২২ সালের অভিবাসন ও গতিশীলতা অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর কররে। এর ফলে দক্ষ ভারতীয় কর্মীদের জন্য জার্মানিতে কাজ করা আরও সহজ হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষে, জার্মানি ঘোষণা করে, তারা ভারতীয় নাগরিকদের জন্য দক্ষ কাজের ভিসার কোটা বছরে ২০,০০০ থেকে বাড়িয়ে ৯০,০০০ করবে। জার্মানির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে ১,৩৬,৬৭০ জন ভারতীয় কর্মী ছিলেন, যা ২০১৫ সালে ছিল ২৩,৩২০ জন।