ওঙ্কার ডেস্ক: ইসলামাবাদ শহর কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মোড়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি ও কূটনৈতিক বৈঠককে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের রাজধানীতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনা মোতায়েন করা হয়েছে, পাশাপাশি কূটনৈতিক অঞ্চল, পাঁচতারা হোটেল এবং বৈঠকের সম্ভাব্য স্থানগুলিকে বিশেষভাবে সুরক্ষিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি দীর্ঘ সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমঝোতার পথ খোঁজার চেষ্টা চলছে। এই আলোচনার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে ইসলামাবাদ। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এর ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
পাকিস্তান প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এত বড় আন্তর্জাতিক বৈঠককে ঘিরে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি এড়াতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, শহরের প্রবেশ ও প্রস্থানপথে কড়া চেকিং চালানো হচ্ছে। বিমানবন্দর এবং সংবেদনশীল এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে। এছাড়াও, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।
এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানো, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যতে সংঘাত এড়ানোর রূপরেখা তৈরির চেষ্টা করা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও বিভিন্ন জায়গায় বিচ্ছিন্ন উত্তেজনার খবর পাওয়া যাচ্ছে, যা আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।