ওঙ্কার ডেস্ক: হরমুজ প্রণালীতে তিনটি জাহাযে হামলার অবনহিযোগ ওঠে ইরানের রেভোলিউশন গার্ডের বিরুদ্ধে। সেই হামলার পাল্টা দিল ওয়াশিংটন। বুধবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাল ট্রাম্প বাহিনী। আন্তর্জাতিক জলপথে অসামরিক জাহাজ লক্ষ্য করে তেহরানের হামলার জবাব দিতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি ওয়াশিংটনের। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নতুন করে সংঘর্ষ তৈরি হওয়ায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সদ্য হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি ও শান্তি আলোচনা ভেস্তে যেতে পারে।
রিপোর্টঁ অনুসারে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একাধিক বন্দর-সংলগ্ন সামরিক অবকাঠামো এই মার্কিন অভিযানের লক্ষ্য ছিল। হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরানের সিরিক, কেশম এবং বন্দর আব্বাসে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে। ইরানের সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, সিরিক বন্দরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
পাশাপাশি ওয়াশিংটন দাবি করেছে, অন্তর্বর্তী সমঝোতার অংশ হিসেবে ইরানি তেল উৎপাদন, সরবরাহ ও বিক্রির জন্য বিশেষ লাইসেন্স জারি করা হয়েছিল, তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২১ অগস্ট পর্যন্ত বহাল থাকার কথা থাকলেও নতুন করে উত্তেজনার কারণে তা বাতিল করা হল।
উল্লেখ্য, সোমবার বিশ্ববাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালীতে দু’টি জাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান। ইরানের রেভোলিউশন গার্ডের সেই হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তার ২৪ ঘণ্টা যেতে না যেতে আরও একটি জাহাজে হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যে মউ স্বাক্ষরিত হয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল আগামী ৬০ দিন হরমুজ প্রণালীতে সমস্ত জাহাজ নির্বিঘ্নে চলতে পারবে। কিন্তু তারপরেও এই বাণিজ্য প্রণালীতে হামলার মুখে পড়ছে জাহাজ।