ওঙ্কার ডেস্ক: ফুরফুরা শরিফে পৌঁছে রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন বহিষ্কৃত তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। হুগলির এই ঐতিহাসিক ধর্মীয় পীঠস্থানে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন রাজনৈতিক জল্পনা। আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের সংখ্যালঘু রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ গড়ার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখা হচ্ছে এই সফরকে।
ফুরফুরা শরিফে গিয়ে হুমায়ুন কবীর একাধিক পিরজাদা ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চলে রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন নিয়ে। সফরের সময় হুমায়ুন কবীর বারবার ঐক্যের বার্তা দেন এবং দাবি করেন, রাজ্যে বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেস উভয়ের বিরুদ্ধেই একটি বিকল্প শক্তিশালী মঞ্চ গড়ে তোলা জরুরি।
তবে এই সফরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকির সঙ্গে সম্ভাব্য সাক্ষাৎ। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল যে, দুই পক্ষের মধ্যে জোট আলোচনা হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে সেই সাক্ষাৎ হয়নি। আইএসএফের তরফে জানানো হয়, দল সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থান না নিলে কোনও রাজনৈতিক সমঝোতার প্রশ্নই ওঠে না। ফলে ফুরফুরা সফরে জোটের প্রশ্নে স্পষ্ট অগ্রগতি না হলেও আলোচনা যে থেমে নেই, সেই ইঙ্গিত মিলেছে।
ফুরফুরা শরিফ থেকে হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় শক্তি প্রদর্শন হবে। তাঁর দলের উদ্যোগে কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে বিশাল জনসভার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। একই সঙ্গে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পরও বিধায়ক পদে বহাল থাকা হুমায়ুন কবীর ক্রমশ নিজেকে স্বতন্ত্র রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। ফুরফুরা শরিফে তাঁর উপস্থিতি এবং দেওয়া বক্তব্য স্পষ্ট করে দিচ্ছে, রাজ্যের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরির চেষ্টা জোরদার হচ্ছে। আগামী দিনে এই সফরের প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতে কতটা পড়ে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।