ওঙ্কার ডেস্ক: পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবির জেলজীবন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। সম্প্রতি এক বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, বুশরা বিবিকে কারাগারে অমানবিক পরিস্থিতির মধ্যে রাখা হচ্ছে এবং তাঁর সঙ্গে আচরণ করা হচ্ছে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পর্যায়ে।
ইমরান খানের অভিযোগ অনুযায়ী, বুশরা বিবিকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় বন্দি রাখা হচ্ছে। তিনি জানান, দিনের অধিকাংশ সময়ই তাঁকে একটি কক্ষে বিচ্ছিন্নভাবে রাখা হয়, যেখানে বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগও অত্যন্ত সীমিত করে দেওয়া হয়েছে। সপ্তাহে মাত্র অল্প সময়ের জন্য যোগাযোগের অনুমতি থাকলেও, তা অনেক সময় হঠাৎ করেই বাতিল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর মৌলিক অধিকার, যেমন পর্যাপ্ত চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং আইনি সহায়তার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ইচ্ছাকৃত মানসিক চাপ সৃষ্টি করার কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণের লক্ষ্য তাঁকে এবং তাঁর পরিবারকে মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়া।
ইমরান খান পাকিস্তানের বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, আদালত এই বিষয়ে যথাযথ নজর দিচ্ছে না এবং প্রশাসনও বিষয়টি উপেক্ষা করছে। পাশাপাশি তিনি ইঙ্গিত করেছেন যে, দেশের ক্ষমতাসীন মহলের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তাঁর স্ত্রীকে লক্ষ্য করে এই ধরনের আচরণ করা হচ্ছে। যদিও পাকিস্তান সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এই অভিযোগগুলিকে অস্বীকার করা হয়েছে, তবুও বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলির একাংশও বিষয়টির প্রতি নজর দিতে শুরু করেছে বলে জানা যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর বুশরা বিবি বর্তমানে কারাবন্দি রয়েছেন। সেই প্রেক্ষাপটেই তাঁর কারাবাসের পরিস্থিতি নিয়ে এই অভিযোগ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানও জেলবন্দী রয়েছেন। কিছু মাস আগে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। এমনকি তাঁর মৃত্যু সংবাদের গুঞ্জন ছড়িয়েছিল।