ওঙ্কার ডেস্ক : সীমানা নির্ধারণ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, কার্যপ্রণালী গঠন ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে ভারত-চিন সীমান্ত বিষয়ক পরামর্শ ও সমন্বয়ের জন্য গঠিত কার্যপ্রণালীর ৩৫তম বৈঠক হল। বুধবার বেইজিংয়ে এই শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠক হয়। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে আন্তঃসীমান্ত নদী বিষয়ক বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কার্যপ্রণালীর ব্যাপারে দ্রুত আলোচনার উপর জোর দেওয়া হয়। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুসারে জানা গেছে, উভয় পক্ষ ২৪তম বিশেষ প্রতিনিধি আলোচনার অংশ হিসাবে সম্মত হওয়া ব্যবস্থাগুলোসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কূটনৈতিক ও সামরিক স্তরে নিয়মিত আদান-প্রদান ও যোগাযোগ বজায় রাখতে সম্মত হয়েছে।
বিদেশ মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আলোচনা গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী ছিল। উভয় পক্ষ ভারত-চিন সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। সীমান্ত এলাকায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তাতে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও স্বাভাবিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।”
এই বৈঠকে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন যুগ্ম সচিব (পূর্ব এশিয়া) সুজিত ঘোষ এবং চিনা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন চিনের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের সীমান্ত ও সমুদ্রবিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক হোউ ইয়ানচি। দুই দেশের প্রতিনিধিরা চিনে আগামী বৈঠকে একযোগে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
এই সফরকালে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতা চিনের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এশীয় বিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক লিউ জিনসং এবং চিনের সহকারী বিদেশমন্ত্রী হং লেই-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
এর আগে এপ্রিলে, ভারত ও চিন নয়াদিল্লিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) বিষয়ক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভা করে এবং এসসিও নেতাদের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন ও সংস্থাটির ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে আলোচনা করে। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতি অনুসারে, উভয় পক্ষ এসসিও সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ও আলোচনা চালিয়ে যেতে এবং তা আরও জোরদার করতে সম্মত হয়েছে।
১৬-১৭ এপ্রিল নয়াদিল্লিতে এই বৈঠকে ভারতের এসসিও জাতীয় সমন্বয়কারী রাষ্ট্রদূত অলোক এ দিমরি এবং চিনের জাতীয় সমন্বয়কারী রাষ্ট্রদূত ইয়ান ওয়েনবিন নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, “উভয় প্রতিনিধিদল যৌথভাবে সচিব (পশ্চিম) সিবি জর্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা, বাণিজ্য, সংযোগ এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ এসসিও কাঠামোর আওতায় সহযোগিতা পর্যালোচনা করেছে। উভয় পক্ষ ভবিষ্যতে পারস্পরিক আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।”
কিরগিজস্তান ২০২৫-২০২৬ সালের জন্য এসসিও-র সভাপতিত্বের দায়িত্বে রয়েছে। কিরগিজস্তানের রাষ্ট্রপতি সাদির জাপারভ সভাপতিত্বের মূলভাব ঘোষণা করেছেন: “এসসিও-র ২৫ বছর : স্থায়ী শান্তি, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে একযোগে।”