ওঙ্কার ডেস্ক: সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির অন-স্ক্রিন মার্কিং বা ওএসএম মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে দেশজুড়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের আবহে মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ফলপ্রকাশের পর থেকেই বহু পড়ুয়া ও অভিভাবকের তরফে নম্বর বিভ্রাট, মূল্যায়নে অসঙ্গতি এবং প্রযুক্তিগত ত্রুটির অভিযোগ ওঠায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। সেই পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, পড়ুয়াদের স্বার্থ রক্ষা করাই সরকারের প্রথম দায়িত্ব এবং সমস্ত অভিযোগ গুরুত্ব দিয়েই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছর থেকেই সিবিএসই দ্বাদশ শ্রেণির খাতা মূল্যায়নে অন-স্ক্রিন মার্কিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। এই পদ্ধতিতে পরীক্ষার্থীদের উত্তরপত্র স্ক্যান করে ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষকদের কাছে পাঠানো হয় এবং অনলাইনে নম্বর দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের দাবি ছিল, এতে মূল্যায়ন আরও দ্রুত, নির্ভুল এবং স্বচ্ছ হবে। কিন্তু ফলপ্রকাশের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অভিযোগ উঠতে শুরু করে যে বহু পড়ুয়ার প্রাপ্ত নম্বর প্রত্যাশার তুলনায় অস্বাভাবিক ভাবে কম এসেছে। অনেকের দাবি, উত্তরপত্রের কিছু অংশ মূল্যায়নই হয়নি। কোথাও আবার স্ক্যানিং সংক্রান্ত সমস্যার অভিযোগও সামনে আসে।
এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের একাংশ সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের অভিযোগ, নতুন পদ্ধতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগের কারণে বহু ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়। বিরোধী পক্ষের তরফে অভিযোগ করা হয়, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এই আবহেই ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগকে সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। তিনি বলেন, পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ ইতিমধ্যেই চালু করা হয়েছে এবং যাঁদের নম্বর নিয়ে সন্দেহ রয়েছে তাঁরা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যা কোথাও থাকলে তা দ্রুত সংশোধনের আশ্বাসও দেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও জানান, গোটা মূল্যায়ন পদ্ধতি পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিগত দিক খতিয়ে দেখতে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের বিভ্রান্তি বা অভিযোগ না ওঠে, তার জন্য মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নির্ভুল করার কাজ শুরু হয়েছে বলেও দাবি কেন্দ্রের।
এদিকে, অন-স্ক্রিন মার্কিং পদ্ধতির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কিছু মহলের দাবি ছিল, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তার ঘাটতি রয়েছে এবং নম্বর পরিবর্তনের আশঙ্কাও থেকে যেতে পারে। যদিও সিবিএসই স্পষ্ট জানিয়েছে, মূল মূল্যায়ন ব্যবস্থায় কোনও ধরনের হ্যাকিং বা তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। যে প্ল্যাটফর্ম নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক ডেমো সাইট ছিল বলেই বোর্ডের দাবি। বহু পড়ুয়া ও অভিভাবক এখন পুনর্মূল্যায়নের ফলাফলের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন।