ওঙ্কার ডেস্ক : বৃহস্পতিবার পবিত্র ইদ উপলক্ষে গোটা দেশের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের জেলায় জেলায় পালিত হল খুশির কুরবানী ইদ।
শিলিগুড়ির কাঞ্চনজঙ্ঘা প্রাঙ্গণের ময়দানে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষেরা ইদের নামাজে অংশ নেন। এদিন নামাজ পাঠে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ কমিশনার সাঈদ ওয়াকার রাজা, ডেপুটি পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক কাজী শামসুদ্দীন আহমেদ সহ অন্যান্য ধর্মপ্রাণ মানুষেরা। নামাজ পাঠের পর সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে ইদুল জোহারের নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষ ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্যের পরিবেশে নামাজ আদা করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশ ও QRT মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কুরবানী ইদ উপলক্ষে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট শহরের শতাব্দী প্রাচীন মসজিদে বৃহস্পতিবার সকালে ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন নামাজ পড়লেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা জুড়েই সরকারি নির্দেশ মেনে এ বছর ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন গরু কোরবানির পরিবর্তে খাসি মুরগিসহ অন্যান্য যে সমস্ত প্রাণী কুরবানী দেওয়া যায় কুরবানী করছেন। সকাল থেকেই বালুরঘাটের এই মসজিদে প্রচুর সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ এসে তাদের ঈদের নামাজ আদায় করেন।
পবিত্র ইদ ঘিরে উৎসবের আবহে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই ভিড় জমতে শুরু করে মালদা জেলার কালিয়াচকের সুজাপুর ইদগাহ ময়দানে। নতুন পোশাকে সেজে বিপুল সংখ্যক মানুষ ইদের নামাজে অংশ নেন। গোটা এলাকা ছিল প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে রাখা। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সকল মানুষের সুখ-সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনা করেন ধর্মপ্রাণ মানুষজন। এদিন ইদের আনন্দ ভাগ করে নিতে একে অপরকে শুভেচ্ছা ও আলিঙ্গনে মেতে ওঠেন সাধারণ মানুষ। ধর্মীয় বক্তারা জানান, ইদুল আযহার প্রকৃত শিক্ষা হল ত্যাগ, সহনশীলতা ও মানবসেবার মানসিকতা গড়ে তোলা। সমাজে ভেদাভেদ ভুলে শান্তি ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও মজবুত করার আহ্বানও জানানো হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সকলের সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে ইদের নামাজ ও উৎসব।