
প্রাইমা হোসেন
যে দল বাংলাদেশ সৃষ্টি করেছে, যে নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচিয়ে রেখে কোটি মানুষের ভাগ্য বদলের লড়াই করেছে, সেই দলেরই অভিভাবক দেশরত্ন শেখ হাসিনা আজ দেশের বাইরে। তাঁর অনুপস্থিতিতে ইদের সাজ, মিষ্টি, নতুন পোশাক—সবই যেন ফিকে লাগে।
ইদ শুধু উৎসব নয়, এটা মিলনের, আশার, আর আত্মার তৃপ্তির দিন। কিন্তু যখন দেশের মা, নারী নেতৃত্বের প্রতীক, গরিব-দুঃখী মানুষের শেষ ভরসা স্বদেশে নেই, তখন বাঙালির হৃদয়ে সেই পূর্ণতার আনন্দ আসে কী করে ?
বিশেষ করে নারীদের জন্য এবারের ইদ একধরনের নিঃশব্দ হতাশার। কারণ শেখ হাসিনার আমলে নারীর ক্ষমতায়ন শুধু স্লোগান ছিল না— উপবৃত্তি, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা—লাখো মা-বোনের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। নারী উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী—সবার জন্য নিরাপত্তা আর সুযোগের দরজা খুলেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন নারীদের ঘরে বসে আয়ের পথ দেখিয়েছে।
আজ সেই নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে অনেক নারী মনে করছেন, তাঁদের কথা বলার জায়গাটা খালি হয়ে গেছে। বাজারের দ্রব্যমূল্য, নিরাপত্তার অনিশ্চয়তা, আর রাজনৈতিক অস্থিরতা মিলিয়ে ইদের বাজারেও তাঁদের চোখে-মুখে আগের মতো উচ্ছ্বাস দেখা গেল না।
বাঙালির হৃদয়ে প্রকৃত ইদের আনন্দ ফিরবে সেই দিনই, যেদিন দেশরত্ন শেখ হাসিনা দ্বিতীয়বারের মতো স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করবেন। সেদিন শুধু এক নেত্রীর ফেরা হবে না, ফিরবে কোটি মানুষের আস্থা, নারীর সাহস, আর বাংলাদেশের হারানো স্থিতির পথ।
যতদিন সেই দিন না আসে, ততদিন বাংলাদেশে ইদ হবে অপূর্ণ—বাইরে আলো থাকবে, কিন্তু ভেতরে থাকবে অপেক্ষার ছায়া।