ওঙ্কার ডেস্ক: ৪ ঠা মে রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়েছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। পালাবদলের পর একে একে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন দলের নেতারাই। দুর্নীতি ইস্যুতে একাধিক অভিযোগ তাঁদের। এরমধ্যেই চলছে পদত্যাগের হিড়িক। আর এসবের মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখলেন তাঁর নতুন কবিতা ‘গিরগিটি।’ এই নতুন কবিতা যে দলের একাধিক ততাকথিত বিদ্রোহী কে নিয়ে লেখা তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
কবিতাটি সম্পূর্ণ অমিত্রাক্ষর ছন্দে লিখেছেন তিনি। কবিতার কথায়, ‘গিরগিটির থেকেও ভয়ঙ্কর/বহুরূপী তো রঙ বদলায়/ তার রোজগারের পন্থায়/ কিন্তু যাঁদের
ভোলবদল মাত্র কয়েক ঘণ্টায় হয়ে যায়। অন্য চরিত্র বদলের- নিজেদের আর্থিক লেনদেন ও স্বার্থপরতার স্বার্থে!’ উল্লেখ্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পরে দলের অন্দরেই কার্যত গৃহদাহ শুরু হয়ে গিয়েছে। একের পর এক নেতা নেত্রী দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়ে দলত্যাগ করেছেন। এই পরিস্থিতিতে রঙ বদলানো সমাজ-রাজনীতির আচরণকে ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় তুলে ধরেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের কবিতা ‘গিরিগিটি’-র মাধ্যমে তিনি ব্যঙ্গ করেছেন সেই সকল মানুষকে, যারা সময় ও স্বার্থ অনুযায়ী অবস্থান বদলান। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা এই কবিতায় উঠে এসেছে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও কৃতজ্ঞতার অভাবের মতো বিষয়ও। কবিতায় উল্লেখ রয়েছে, ‘গিরিগিটি’র মতো মানুষকে চেনা সহজ নয়। সুযোগ পেলেই তারা সম্পর্ক, আদর্শ, বিশ্বাস- সবকিছু বদলে নিতে পারে। কবিতে আক্ষেপ, পুরোনো উপকার ভুলে গিয়ে মানুষ যখন নিজের লাভের জন্য রং বদলায়, তখন সমাজের প্রকৃত মানবিকতা হারিয়ে যায়। ‘কতো নেবে চরিত্র বদলাতে?/ চরণতলে কতো উৎকোচ ধন?/ আর কত চাও?/ নিজেদের ভোল বদলাতে?/ রথের চাকাও চলে/ তোমাদের চাকাও চলবে।’ কবিতায় উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু কিধু মানুষ নিজের সুবিধা অনুযায়ী একে অপরের প্রতি ভক্তি দেখান কাজ শেষ হয়ে গেলেই সে সেই ব্যাক্তিকে ভুলে জান। যদিও কবিতার শেষ দিকে তিনি কিছু মানুষের দিকে আশা রেখেছেন। তাঁর মতে এখনও পর্যন্ত কিছু মানুষ রয়েছেন যাদের ওপর এখনও তিনি বিশ্বাস রাখছেন।
প্রসঙ্গত, দিনকয়েক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুটি কবিতা ব্রেভ ও দখল নিয়েও জর চর্চা হয়েছে। ক্ষমতা থেকে চলে গিয়েও তিনি মা মাটি মানুষের স্বার্থে লড়াই জারি রাখবেন বলে জানান তিনি।