ওঙ্কার ডেস্ক: পবিত্র ইদ-উল-আজহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানালেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী-সহ দেশের একাধিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ত্যাগ, ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তায় ভরে ওঠে তাঁদের শুভেচ্ছাবার্তা। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উৎসবের আবহের মধ্যেই নেতাদের এই শুভেচ্ছা বার্তা বিশেষ তাৎপর্য বহন করেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীর উদ্দেশে শুভেচ্ছা বার্তা দিয়ে বলেন, “ইদ-উল-আজহা সকলের জীবনে সুখ, শান্তি ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে আসুক”। তিনি বলেন, “এই উৎসব সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ এবং ঐক্যের পরিবেশকে আরও মজবুত করে। দেশের বৈচিত্র্যের মধ্যেও যে ঐক্যের বন্ধন রয়েছে”। এই ধরনের উৎসব সেই মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এক বার্তায় বলেন, “ইদ-উল-আজহা আত্মত্যাগ, বিশ্বাস এবং মানবিকতার প্রতীক। এই উৎসব সমাজে সহমর্মিতা, ভালোবাসা এবং ঐক্যের মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করে”। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই পবিত্র উৎসব দেশের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধকে আরও দৃঢ় করবে। একইসঙ্গে সমাজের অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।
কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর শুভেচ্ছাবার্তায় বলেন, “ইদ-উল-আজহা ত্যাগ, সহানুভূতি, বিশ্বাস ও ক্ষমার শিক্ষা দেয়”। মানুষের মধ্যে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে তুলতেই এই উৎসবের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দেশের শান্তি, ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির কামনাও করেন তিনি।
লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রত্যেক পরিবারের সুখ, শান্তি ও একসঙ্গে থাকার আনন্দ কামনা করেন। তাঁর বার্তায় উঠে আসে ভালোবাসা, মানবতা ও সামাজিক সম্প্রীতির কথা। একইসঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এই উৎসব সকলের জীবনে শান্তি, সমৃদ্ধি ও সৌহার্দ্যের বার্তা বয়ে আনুক”।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ইদ-উল-আজহা, যা বকরি ঈদ নামেও পরিচিত। ইসলামিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে পালিত হয় এই উৎসব। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের নিদর্শন হিসেবে হজরত ইব্রাহিম তাঁর প্রিয় পুত্রকে কোরবানি দিতে প্রস্তুত হয়েছিলেন। সেই ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের ঘটনাকেই স্মরণ করা হয় ঈদ-উল-আজহার মাধ্যমে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সকাল থেকেই ইদের নামাজে সামিল হন লক্ষ লক্ষ মানুষ। মসজিদ ও ঈদগাহগুলিতে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। নামাজের পর একে অপরকে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি কোরবানি ও দান-ধ্যানের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। বহু জায়গায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ছবিও ধরা পড়ে, যেখানে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একে অপরের উৎসবের আনন্দে সামিল হন।