ওঙ্কার ডেস্ক: বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে আগের তৃণমূল সরকারের প্রতি বারবার অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত ইস্যু নিয়ে তোপ দেগেছিলেন, আশ্বাস দিয়েছিলেন ক্ষমতায় এসে প্রথমেই সিমান্তে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে একাট্টা কাজ করবে বিজেপি সরকার। সেই মত সিমান্তে বিএসএফ কে জমি হস্তান্তরের কাজ শুরু করেছে রাজ্য সরকার। কোন জেলায় কত জমি বিএসএফকে ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে সেই খবর নিজেই এক্স হ্যান্ডেলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ-এর হাতে মোট ১৪২.৭৯ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই জমি মূলত ব্যবহার করা হবে বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণ এবং সীমান্তের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য। এর ফলে অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান রুখতে বিএসএফ আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর পোস্টে বলা হয়েছে, কোচবিহারে ২২.৯২৫ একর, জলপাইগুড়িতে ৩৫.১৬৫ একর, দার্জিলিং-এ ৮.৮১৫ একর, উত্তর দিনাজপুরে ২.৮৪ একর এবং দক্ষিণ দিনাজপুরে ২০.১৭০১ একর জমি বিএসএফ-কে দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও মালদহে ১০.৯০ একর, মুর্শিদাবাদে ৩৮.৮০৫ একর, নদিয়ায় ০.৫৫ একর এবং উত্তর ২৪ পরগণায় ২.৬ একর জমি তুলে দেওয়া হয়েছে বিএসএফের হাতে। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি নিয়ে জটিলতা ছিল। অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের আপত্তির কারণে জমি অধিগ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নবান্ন জেলা প্রশাসনগুলিকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল যাতে সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে দ্রুত জমি চিহ্নিত করে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। গত সপ্তাহে নবান্ন সভাঘরে এই প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, পূর্ববর্তী রাজ্য সরকার তা করতে অস্বীকার করেছিল। তবে বুধবার থেকে সেই ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। এখন থেকে রাজ্য পুলিশ যেসব অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে গ্রেফতার করবে, তাদের অবিলম্বে বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়া হবে। তবে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতাভুক্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।