ওঙ্কার ডেস্ক: ‘আমি একা দুর্নীতি করিনি আমার মত অনেকেই লক্ষ্মী ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছিলেন’ পুলিশের হাতে ধরা পরতেই এমনই ভাবে ফাটালেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধাভোগী রাকিবুল শেখ। বুধবার বিকেলে নবান্ন থেকে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের নতুন ফর্ম প্রকাশিত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানেই তিনি দাবি করেন, এই মুহূর্তে ২ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেলেও, তার মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। তিনি জানান, নবান্নে প্রতিদিন এই প্রকল্প সংক্রান্ত অসংখ্য অভিযোগ জমা পড়ছে। সেই প্রসঙ্গেই উঠে আসে বহরমপুরের রাকিবুল শেখের নাম। মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার সঙ্গে সঙ্গে তদন্তে নামে পুলিশ। মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার করা হয় রাকিবুল শেখকে। অভিযোগ, গত ৩ বছর ধরে তিনি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পেয়ে আসছেন, অথচ প্রকল্পে আবেদনই করেননি। রাকিবুল নিজেই জানিয়েছেন, “আমি কোনও আবেদন করিনি। তবে আমার অ্যাকাউন্টে অনেকদিন ধরেই টাকা আসছিল। ব্যালেন্স চেক করতে গিয়েই প্রথম বুঝি। কারও কাছে অভিযোগ করিনি, বন্ধুরাই বারণ করেছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, দুর্নীতি শুধু তার ক্ষেত্রে নয়, আরও অনেকেই এমনভাবে টাকা পাচ্ছেন। তাঁর কথায়, “আমি একা দুর্নীতি করিনি। আরও লোক আছে। সরকার নিয়ম মতো ব্যবস্থা নিলে আমার কিছু বলার নেই।” রাকিবুল জানান, তিনি শুধুমাত্র আবাস যোজনায় আবেদন করেছিলেন, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে নয়।
একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন রাজ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ ভুয়ো নামের তালিকা আছে যারা লক্ষ্মী ভাণ্ডারের সুবিধা নিত। যেটি মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট প্রকল্প, সেখানেও ভেজাল ঢুকে গেছে। বহরমপুরের রাকিবুল শেখ, বাবার নাম মনসুর শেখ, তিনিও নিয়মিত টাকা পাচ্ছেন। এটি ভেরিফিকেশনের গাফিলতি ছাড়া আর কিছু নয়।