ওঙ্কার ডেস্ক: লোকসভার অন্দরে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই সাংসদের সংঘাত প্রকাশ্যে চলে আসায় নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। দলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে দলেরই আর এক সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, সংসদের ভিতরে বারবার তাঁকে মৌখিকভাবে হেনস্থা করা হয়েছে এবং অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের আচরণের শিকার আরও কয়েকজন মহিলা সাংসদও হয়েছেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন তিনি।
কাকলি ঘোষ দস্তিদার তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, সংসদের মতো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে কোনও সাংসদের এ ধরনের আচরণ শোভন নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাবার্তা ও আচরণে নারীবিদ্বেষী মানসিকতার প্রকাশ ঘটেছে। এই ধরনের আচরণ সংসদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে বলেও তিনি স্পিকারকে জানিয়েছেন। পাশাপাশি তিনি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় তদন্ত ও উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আবেদন করেছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়েই কাকলি ঘোষ দস্তিদার দলের একাধিক সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বারাসত সাংগঠনিক জেলার সভাপতির পদ ছাড়ার পর তিনি দলের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন। বিশেষ করে দলের সাংগঠনিক কাঠামো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং পুরনো কর্মীদের গুরুত্ব কমে যাওয়া নিয়ে তাঁর ক্ষোভের কথা রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হয়েছিল।
ঘাসফুল শিবিরের ভিতরে দীর্ঘদিন ধরে চলা মতবিরোধই এখন প্রকাশ্যে সামনে আসছে। লোকসভায় তৃণমূলের সাংসদদের মধ্যে সমন্বয় নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। সেই পরিস্থিতিতে এই অভিযোগ দলীয় অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল বলেই মনে করা হচ্ছে। এদিকে এই অভিযোগ নিয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি। তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।