ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের উদ্দেশে কাতার থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে আসা একটি এলএনজি ট্যাঙ্কার হরমুজ প্রণালির কাছে সন্দেহভাজন ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, জাহাজটির নাম ‘আল রেকাইয়্যাত’। এটি গুজরাটের দাহেজ বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করছিল। ঘটনার সময় জাহাজে মোট ২৯ জন নাবিক ছিলেন, তাঁদের মধ্যে চারজন ভারতীয়। স্বস্তির খবর, হামলায় কোনও নাবিকের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
জানা গিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি গালফ অব ওমান অঞ্চলে চলার সময় একটি সন্দেহভাজন ড্রোন জাহাজটিতে আঘাত হানে। আঘাতের ফলে জাহাজের ইঞ্জিন রুমে আগুন ধরে যায় এবং সেখান থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। তবে জাহাজের ক্রুরা দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেন এবং অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। পরে জাহাজটিকে নিরাপদ অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। ঘটনার পরই আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলি সতর্ক হয়ে ওঠে। হামলার উৎস, ব্যবহৃত ড্রোনের ধরন এবং এর পিছনে কারা রয়েছে, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এই ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরল প্রাকৃতিক গ্যাস বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পৌঁছে যায়। ফলে এই অঞ্চলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং বাণিজ্যিক নৌপরিবহণের উপর তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।
ভারতের পক্ষ থেকেও গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। জাহাজে থাকা ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে, যাতে হামলার প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।