ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা উসকে দিল ইরানের সাম্প্রতিক দাবি। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’-কে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় মাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে একটি ক্রুজ মিসাইল ছোঁড়া হয় ওই মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উদ্দেশে। ইরানের সেনাবাহিনীর তরফে বলা হয়েছে, এটি ছিল একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে মার্কিন বাহিনীকে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ইরানের সামুদ্রিক সীমার কাছাকাছি অবস্থান করলে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। ইরানি নৌবাহিনীর দাবি, এই হামলার জেরে মার্কিন রণতরীটি তার অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যম, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ এবং বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই যাচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফে এখনও পর্যন্ত এই অভিযোগের কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। অতীতেও ইরানের একাধিক হামলার দাবি ওয়াশিংটন অস্বীকার করেছে অথবা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। ফলে এই ঘটনাতেও বাস্তবে কী ঘটেছে, তা নিয়ে স্পষ্টতা নেই। একদিকে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা অনিশ্চিত, অন্যদিকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চাইছে। ফলে গোটা অঞ্চলে অস্থিরতা আরও বাড়ছে এবং যে কোনও সময় বড়সড় সংঘর্ষের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তেহরানের এই যদি এই দাবি সত্যি হয়, তবে তা সরাসরি মার্কিন নৌবাহিনীর উপর একটি গুরুতর চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে পুরো ঘটনাটির প্রকৃত প্রভাব এবং পরিণতি স্পষ্ট নয়।