ওঙ্কার ডেস্ক: পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনীতির সমীকরণ ক্রমশ আরও জটিল হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে উপসাগরীয় দেশগুলি, বিশেষ করে সৌদি আরব, আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে আগ্রহী। এক আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরশাহি তাদের ভূমি আমেরিকাকে হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করতে দিতে সম্মত হয়েছে। আর এই তথ্য সামনে আসতেই মধ্যপ্রাচ্যের সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি নেতৃত্ব ইরানকে তাদের নিরাপত্তার জন্য অন্যতম বড় হুমকি হিসেবে দেখে আসছে বহুদিন ধরে। সেই কারণে তারা চায়, এই সংঘাতের মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হোক। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পক্ষেও তারা মত দিয়েছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আঘাত হানার প্রস্তাবও রয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার ট্রাম্পের সঙ্গে কথোপকথনে সৌদি যুবরাজ এই যুদ্ধকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এই সংঘাতের মাধ্যমে শুধু তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাই নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ইরানের প্রভাবকে স্থায়ীভাবে দুর্বল করার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করছেন, এই মুহূর্তে যদি চাপ অব্যাহত রাখা যায়, তবে পশ্চিম এশিয়ার শক্তির ভারসাম্য নতুনভাবে গড়ে তোলা সম্ভব।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যেই সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তিনি সৌদি যুবরাজকে একজন শক্তিশালী ও দৃঢ় নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই সংঘাতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে কাজ করছে। পাশাপাশি ট্রাম্প যংযুক্ত আরব আমিরশাহিরও প্রসংশা করেছেন। তিনি এই যুদ্ধে কাতারের অবস্থান নিয়েও সন্তুষ্ট তা তিনি আগেই জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের কথায়, ইরানের আক্রমণে পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেইসব দেশের উচিত ইরানের বিরুদ্ধে তাদের এই অভিযানে যোগ দেওয়া।
অন্যদিকে এবিষয়ে প্রকাশ্যে সৌদি আরব কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিলেও, অন্তরালে তাদের অবস্থান অনেকটাই আক্রমণাত্মক বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌদি নেতৃত্ব আশঙ্কা করছে যে, যদি এই মুহূর্তে ইরানের উপর চাপ কমানো হয়, তবে ভবিষ্যতে সেই হুমকি আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে পারে। তাই তারা দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবেই এই সংঘাতকে দেখছে। ফলে সামগ্রিকভাবে পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনিশ্চিত হয়ে উঠছে এবং যে কোনও সময় তা আরও বড় আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।