ওঙ্কার ডেস্ক: ইরান আমেরিকার যুদ্ধবিরতির মধ্যেই স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্যপাকিস্তানের ইসলামাবাদে পৌঁছে যায় ইরানের প্রতিনিধি দল। ইসলামাবাদগামী বিমানে ওঠার সময় ইরানের প্রতিনিধিদল সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছে মার্কিন হামলায় নিহত মিনাবের ১৬৮ জন শিশুর রক্তমাখা স্কুলব্যাগ, ছেঁড়া জুতো, সাদা ফুল এবং নিহত শিশুদের ছবি। প্রসঙ্গত শান্তিবৈঠক টেবিলে ইরানের সম্মুখে রয়েছে এই শিশুদের উপর হামলা চালানো দেশ আমেরিকাই।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি পাকিস্তানে পৌঁছয় শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে। তিনি তার এক্স হ্যান্ডেলে একটি ছবি পোষ্ট করেন। বিমানের আসনজুড়ে সাজানো ছিল শিশুদের ব্যবহৃত ব্যাগ ও জুতো, যেগুলিতে এখনও রক্তের দাগ স্পষ্ট। এই উপস্থাপনার মাধ্যমে যুদ্ধের নির্মমতা এবং নিরীহ প্রাণহানির ভয়াবহতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে তেহরান।
ইরানের প্ররিনিধিদের এই দল উদ্ধৃত এই বিমানটিকে ‘মিনাব ১৬৮’ প্রতীকী নাম দিয়েছে। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসের ২৮ তারিখে আচমকায় ইরানের মিনাব এলাকাক্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যালেস্টিক মিসাইল হামলা চালান হয়। মুহুর্তের মধ্যেই ধুলোয় মিশে যায় বিদ্যালয়টি। প্রাণ হারান ১৬৮ জন নাবালিকা শিশু।
প্রথমে ইরান এবং আমেরিকা দুই দেশই এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। পরে একাধিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট হয়ে যায় এই হামলা আমেরিকার তরফ থেকে করা হয়েছে। পরবর্তী কালে ইরান এই হামলার নেপথ্যে থাকা দুই জন অফিসারদের ছবিও প্রকাশ করে। এবার এতজন নিষ্পাপ শিশুর হত্যাকারি আমেরিকার শান্তি চুক্তির সময় তাঁদের স্কুল ব্যাগ, জুতো ছবি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহলে এক অন্তর্নিহিত বার্তা বহন করছে।
ইসলামাবাদে এই বৈঠক ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বহুদিনের উত্তেজনা ও সংঘাতের পরিপ্রেক্ষিতে এই আলোচনা শান্তির পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে সেই সম্ভাব্য সমাধানের পেছনে যে অসংখ্য নিরীহ প্রাণের মূল্য জড়িয়ে রয়েছে, তা এই প্রতীকী উদ্যোগের মাধ্যমে আরও তীব্রভাবে সামনে এসেছে।