ওঙ্কার ডেস্ক: সংঘর্ষবিরতির শর্ত নিয়ে শুক্রবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে মুখোমুখি হবে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তার আগে আরও এক বার তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের অস্তিত্ব থাকুক বা না থাকুক, হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজের যাতায়াত অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসাবে ইরান প্রথমে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চুলাচলে দিয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার দেশটির তরফে জানানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। যে দু সপ্তাহের জন্য সংঘর্ষবিরতির কথা বলা হয়েছে, এই সময় পর্বে প্রতিদিন ১৫টি জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে। এর বেশি জাহাজকে অনুমতি দেওয়া হবে না। তার জন্য শুল্ক দিতে হবে বলেও জানায় তেহরান। আর এর পরেই ট্রাম্প সুর চড়িয়ে বলেন, ইরান হরমুজ নিয়ে ‘খুব খারাপ কাজ’ করছে। তিনি তেহরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, ‘ইরান থাকুক বা না থাকুক, তেল পরিবহণ চলবেই’।
শুক্রবার ইসলামাবাদে যে বৈঠক হবে, সেখানে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। থাকবেন পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ। সূত্রের খবর, বৈঠকে থাকতে পারেন ট্রাম্পের জামাতা তথা প্রাক্তন উপদেষ্টা জারেড কুশনার। এই বৈঠকে ইরানের যে প্রতিনিধিদল উপস্থিত থাকবে, সেই দলে থাকবেন পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ইতিমধ্যে পাকিস্তানের রাজধানী শহরে এই বৈঠক ঘিরে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের ৯০০ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদ যদি মধ্যস্থতা করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি স্থায়ী সংঘর্ষবিরতিতে রাজি করাতে পারে, তাহলে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে ইসলামাবাদের গুরুত্ব অনেকটাই বাড়বে।